রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
Space Advertisement
Space For advertisement
  • প্রচ্ছদ » লিড নিউজ ১ » জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাড়ছে রাজনৈতিক সহিংসতা কুমিল্লার সীমান্তের ১০ রুটে ঢুকছে অবৈধ অস্ত্র!


জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাড়ছে রাজনৈতিক সহিংসতা কুমিল্লার সীমান্তের ১০ রুটে ঢুকছে অবৈধ অস্ত্র!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
22.06.2023

রুবেল মজুমদার ।। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বর মাসের শেষ কিংবা জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে দেশে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর নির্বাচনকে সামনে রেখে হঠাৎ করে শুরু হয়েছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ঝনঝনানি। রাজনৈতিক সহিংসতা ছাড়াও অপেশাদার সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করছে এসব অস্ত্র। কেউ কেউ ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার করেও চালাচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কুমিল্লার ৭৪ কিলোমিটার অংশের প্রায় ১০ টি রুটে ঢুকছে এসব অবৈধ অস্ত্র ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য বলছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে সীমান্তের ফাঁক গলিয়ে অস্ত্র ঢুকছে দেশে। এ অবস্থায় এখনই লাগাম টানতে চায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় আগ্নেয়াস্ত্রের চোরাইপথ কুমিল্লাসহ বেশ কিছু সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ব্লক রেইড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার ।
এদিকে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে,তত অশান্ত হয়ে উঠছে কুমিল্লার বেশ কয়েকটি উপজেলার রাজনীতি। এছাড়া অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সম্প্রতি প্রাণহানি ঘটেছে বেশ কিছু। আর এসব অস্ত্র অধিকাংশ আসছে মুলত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে। ক্ষমতাশীল দল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হচ্ছে এসব অবৈধ অস্ত্র। কিন্তু এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসনের নেই কোনো বিশেষ ভূমিকা ।
সর্বশেষ ৬ জুন জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আওয়ামী লীগের দুই নেতার অনুসারীরা নিজেদের অবস্থান ও শক্তির জানান দিতে বেশ কয়েকজন অত্যাধুনিক অবৈধ অস্ত্র প্রকাশ্যে মহড়া দিলেও, তাদের গ্রেফতার বা অস্ত্র উদ্ধারে তৎপর দেখা যায়নি প্রশাসনের। এছাড়া গত ০১ মে দাউদকান্দিতে জামাল হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৩ টি অস্ত্র উদ্ধার করলেও বাকী অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে পারেনি প্রশাসন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা গোয়ন্দা পুলিশ(ডিবি) ওসি রাজেস বড়ুয়া বলেন, সাম্প্রতিক যে সব হত্যাকাণ্ডে অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে,এ বিষয়টি আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জেলা পুলিশের সহযোগিতায় আমরা নিয়মিত কাজ করছি।
একটি সূত্র জানায়, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কুমিল্লার অংশে প্রায় ১০ টি রুট দিয়ে অবৈধ অস্ত্র দেশে প্রবেশ করছে। মুলত সীমান্ত পথে ভারত থেকে মাদকদ্রব্য,শাড়ী, থ্রিপিস, কসমেটিকসের পাশাপাশি চোরাইপথে আসছে অবৈধ অস্ত্র । এসব অস্ত্র চলে যাচ্ছে কুমিল্লা ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অথচ এসব চোরাকারবারিদের নামের তালিকা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বছর বছর সংযোজন, বিয়োজন করলেও আটকের খাতায় সিকি ভাগের নাম খুঁজে পাওয়া যাবে না।
আরো কয়েকটি সূত্রে জানা যায়,কুমিল্লার আদর্শ সদর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, সদর দক্ষিণ ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার প্রায় ৭৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে কুমিল্লার ১০ রুটে ঢুকছে পিস্তল, রিভলবার, পাইপগান, কাটা রাইফেল মতো ভয়ংকর অস্ত্র । অথচ এ পাঁচ উপজেলার বিজিবির বর্ডার পোষ্ট বা বিওপি রয়েছে ১৬টি। এসব বর্ডার পোষ্টে বিজিবি সতর্কাবস্থানে থাকলেও তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ ডিঙ্গিয়ে অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান থেমে নেই।
রুট গুলো হল কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল,নয়নপুর, বুড়িচং উপজেলার চড়ানল, সংকুচাইল, রাজাপুর, আদর্শ সদর উপজেলার বিবির বাজার, গোলাবাড়ি, সদর দক্ষিন উপজেলার একবালিয়া, তালপট্টি, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গোমারবাড়ি,পদুয়া সীমান্ত পথ।
মঙ্গলবার (২০ জুন) সকালে আদর্শ সদর উপজেলার গোলাবাড়ি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,কম সময়ে অধিক লাভবান হওয়ার আশায় সীমান্ত এলাকার অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের কাজে।
সীমান্তবর্তী এক শ্রেণির দরিদ্র লোকজনকে অবৈধ অস্ত্র বহন করতে ভাড়া করা হয়। অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে তারা সীমান্ত পার করে নির্দিষ্ট স্থানে অস্ত্র পৌঁছে দেয়। এসব অস্ত্র তৈরিতে ছোট ছোট কারখানা ভারতের সীমান্ত এলাকায় গড়ে উঠেছে । আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কঠোর নজরদারি পাশ কাটিয়ে বেশ কয়েকটি চক্রের সদস্য অস্ত্র কেনাবেচা করছে।

নাম প্রকাশের শর্তে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার এক অস্ত্র চোরাকারবারি তাজুল হক (ছন্দনাম) সাথে কথা বলে জানা যায়, বেশিরভাগ দেশি অস্ত্র ভারতে সীমান্তবর্তী এলাকা গুলো থেকে আসে । বিশেষ করে ভারতের পাটনা ও আগরতলা রাজ্য হতে আসে আধুনিক অস্ত্র। দেশীয় অস্ত্র গুলো বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত একালায় পাওয়া যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে। এসব অস্ত্রের একটি অংশ কুমিল্লার সীমান্ত দিয়ে আসছে ।
কুমিল্লার স্থানীয় সাংবাদিক খালেদ বিন প্রিন্স বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র আসা ঠেকাতে নিরাপত্তা জোরদার ও দেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান চালাতে হবে। তা না হলে নির্বাচন ছাড়াও নানা সহিংসতায় এসব অস্ত্র ব্যবহার করবে দুর্বৃত্তরা।
এ বিষয় কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মাদ রেদওয়ালু ইসলাম বলেন,সীমান্তে দিয়ে অস্ত্র যেন না আসতে পারে বিজিবি ব্যাটালিয়ন ১০ সবসময় সর্তক অবস্থান রয়েছে। এছাড়া আমরা গত মাসে দুই অস্ত্র উদ্ধার করেছি। প্রশাসন ও স্থায়ীদের সহযোগিতা পেলে অবশ্যই আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগে সীমান্তে অবৈধ অস্ত্র না রোধ করতে পারবো ।
কুমিল্লা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বলেন,কুমিল্লা জেলা যেহেতু সীমান্তবর্তী এলাকা,এখানে নজরদারি করেন বিজিবি। আমরা আমাদের মতো করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করছি প্রতিনিয়ত,আমাদের নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে সমগ্র জেলায়। শুধু জাতীয় নির্বাচন বিষয় নয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্র চোরাকারবারিদের ধরতে আমাদের একটি বিশেষ টিম কাজ করছে।