বুধবার ১৯ জুন ২০২৪
Space Advertisement
Space For advertisement
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : সদর দক্ষিণে ত্রিমুখী ও বরুড়ায় দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা


উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : সদর দক্ষিণে ত্রিমুখী ও বরুড়ায় দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
20.05.2024

সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ।। কুমিল্লায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শেষ মুহূর্তের চলছে প্রচার প্রচারনা। তবে সদর দক্ষিণে সংসদ সদস্যের নামে প্রভাব বিস্তার নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছেন চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। আর বরুড়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শ্যালক প্রভাব বিস্তার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী।
ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রের পরিবেশ ও নির্বিঘ্নে ভোটার আসা নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করছেন প্রার্থীরা। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের দাবি, নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষ কঠোর ভূমিকা থাকলেই একটি সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন সম্ভব।
সদর দক্ষিণ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কাপ-পিরিচ প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার, হেলিকপ্টার প্রতীকে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাবলু এবং আনারস প্রতীকে ইঞ্জিনিয়ার আখতারুজ্জামান রিপন ও কাউছারুল ইসলাম মোটরসাইকেল প্রতীকে করছেন নির্বাচন। এরমধ্যে তিনজনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এছাড়াও সাতজন ভাইস চেয়ারম্যান ও তিনজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উপজেলার ৫৫টি কেন্দ্রে আগামী ২১ মে ভোটগ্রহণ হবে। ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৮ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৬৯ হাজার ৭০৬ জন ও নারী ৬৪ হাজার ১৬০ জন। হিজড়া ভোটার দুজন।
উপজেলার সাতটি ইউনিয়নেই আলাদা আলাদা প্রভাব রয়েছে। আঞ্চলিকতার প্রভাবে ভোট ভাগাভাগি হবে তিন প্রার্থীর মধ্যেই। এছাড়া রাজনৈতিক সাংগঠনিক গুরুত্ব ও আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে ভোট ভাগাভাগি নিয়েও রয়েছে সমীকরণ। তাই ভোটাররা বলছেন, ভোট হলে কোথাও একতরফা নির্বাচনের তেমন সম্ভাবনা নেই।
সদর দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লড়াই হবে ত্রিমুখী। সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপির ভাই ও বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। দীর্ঘদিন এই উপজেলার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংগঠনগুলো তাঁর পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে আছেন তিনি।
তবে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হাই বাবলু এগিয়ে আছেন সামাজিক ও গণযোগাযোগে। দীর্ঘ সময় নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ায় উপজেলার বেশিরভাগ জনগণের কাছেই তিনি সশরীরে ভোট চাইতে গিয়েছেন। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রভাবও পড়বে এই ভোটের লড়াইয়ে। এছাড়া কুমিল্লা মহানগর ঘেঁষা নির্বাচনী এলাকায় হেলিকপ্টার মার্কার আধিপত্য বিস্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, দুই পুরোনো নেতার লড়াইয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে দাবি করছেন নতুন মুখ ইঞ্জিনিয়ার আক্তারুজ্জামান রিপন। আনারস প্রতীকের রিপন সামাজিক কর্মকাণ্ড দিয়ে এলাকায় সুপরিচিত। তাঁর নিজের ইউনিয়ন গলিয়ারা উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের ভোটারদের পূর্ণ সমর্থন পাবেন বলে তাঁর দাবি।
আর বরুড়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের আপন শ্যালক মো. হামিদ লতিফ ভূইয়া ওরফে কামাল। তিনি উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের মনোহরপুর ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা। তবে তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে না থেকে সামাজিক কর্মকান্ড করায় পুরো উপজেলায় রয়েছে তার আনারস প্রতীকের রয়েছে প্রচুর সমর্থক। হেলিকপ্টার প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী এ এন এম মইনুল ইসলামের তেমন সমর্থক না থাকলেও সাবেক চেয়ারম্যান হওয়াই ওনারও সমর্থক রয়েছে। এতে বরুড়ায় চলবে দ্বিমুখী লড়াই।
প্রভাব বিস্তার ও বহিরাগতদের আধিপত্যের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পঙ্কজ বড়ুয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকায় আচরণবিধি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন। অভিযোগ পেলে তাঁরা ব্যবস্থা নিচ্ছে। এখনও নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে। আমরা একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য সর্বোচ্চ সচেষ্ট আছি।