মঙ্গল্বার ৩১ জানুয়ারী ২০২৩
Space Advertisement
Space For advertisement


বিভাগীয় গণসমাবেশ কেন্দ্র করে উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
24.11.2022

# লাখো মানুষ সমাগমের টার্গেট
# গণসমাবেশ হাজী ইয়াছিনের জন্য অগ্নি পরীক্ষা

আবদুর রহমান ।। দীর্ঘদিন ধরে অনেকটাই ‘ঝিমিয়ে’ সাংগঠনিক কার্যক্রম চললেও বিভাগীয় গণসমাবেশকে ঘিরে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন কুমিল্লার বিএনপির নেতাকর্মীরা। কুমিল্লা নগরী থেকে শুরু করে প্রতিটি উপজেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও বিরাজ করছে প্রাণচাঞ্চল্য। কুমিল্লার বিএনপির নেতাদের প্রত্যাশা- যত বাধাই আসুক শেষ পর্যন্ত সবকিছু উপেক্ষা করে গণসমাবেশ সফল করবেনই তাঁরা। দলের নেতাকর্মীসহ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটিয়ে স্মরণকালের বৃহৎ সমাবেশ করতে মুখিয়ে আছেন বিএনপির নেতারা।
অপর দিকে, শুধু কুমিল্লা নয় , ব্রাহ্মনবাড়িয়া ও চাঁদপুর জেলার বিএনপির প্রথম শ্রেণীর নেতারাও বলছেন, যদিও কুমিল্লা বিভাগীয় গণসমাবেশ এটি কেন্দ্রীয় কর্মসূচী। তারপরেও বলব, এটির সফলতা এবং ব্যর্থতার বিশাল একটা দায় গিয়ে পড়বে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিনের উপর। এটি ইয়াছিন সাহেবের জন্য একটি অগ্মিপরীক্ষাও। যদি গণসমাবেশ সফল হয় তাহলে জাতীয় পর্যায়ে নেতার মর্যাদায় চলে যাবেন হাজী ইয়াছিন।
আগামী ২৬ নভেম্বর (শনিবার) কুমিল্লা নগরীর ঐতিহ্যবাহী টাউন হল মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সমাবেশ। এতে অংশ নেবেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা, কুমিল্লা উত্তর জেলা, কুমিল্লা মহানগর, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি। এরই মধ্যে ৫টি ইউনিটের নেতাকর্মীরা দিনরাত এক এক করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন গণসমাবেশ সফল করতে। তিনদিন পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ওই গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে সমাবেশস্থল এবং পুরো নগরী দলটির নেতাকর্মীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান আর ভবনের দেওয়ালে লাগানো হচ্ছে পোস্টার-ব্যানার। এসব পোস্টারে দলটির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হচ্ছে। এছাড়া দলের শীর্ষ নেতাদের স্বাগত জানিয়েও ব্যানার-ফেস্টুন টানানো হয়েছে।

এদিকে, বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে গত কুমিল্লা সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি থেকে বহিস্কৃত দুই মেয়র প্রার্থী সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সারও সরব হয়ে উঠছেন। বহিস্কৃত এই দুই নেতাও মুল দলের পাশাপাশি গণসমাবেশকে সফল করার জন্য প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সিটি নির্বাচনের এই দুই মেয়র প্রর্থী ইতিমধ্যে নগরীতে ব্যানার, ফেস্টুন দিয়ে গণসমাবেশকে স্বাগত জানিয়ে চলেছেন।
অপর দিকে, তরুণ বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার ইতিমধ্যে নিজেসহ দলের বহিস্কৃত কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়েও যৌথ ভাবে সংবাদ সম্মেলন করে দলের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে, সিটি নির্বাচনে হেরে দলের মধ্যে অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়া সাক্কু নিজ অনুসারীদের নিয়ে এখনো পুরোনো গ্রুপিং চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। যদিও দার গ্রুপের সিংহ ভাগ প্রথম সারির নেতাই এখন জেলা ও মহানগরের মুল কমিটিতে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আবার জেলা ও মহানগরের এই দুই ইউনিটই আবার হাজী ইয়াছিনের সমর্থনপুষ্ট এবং তার নেতৃত্বেই তারা ঐক্যবদ্ধ।

গতকাল কুমিল্লা টাউন হল মাঠের সমাবেশস্থল ঘুরে এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গণসমাবেশকে সামনে রেখে সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে মঞ্চ তৈরির কাজ। প্রথমে কুমিল্লা টাউন হলের দোতলার বেলকনি জুড়ে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বলায় সেখানে মঞ্চ না করে মাঠের পশ্চিম-উত্তর কোণে মঞ্চ তৈরির যাবতীয় সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। মাঠের পূর্ব পাশে ২৪ নভেস্বর পর্যন্ত বইমেলা চললেও মঞ্চ তৈরির কাজে এতে কোন সমস্যা হচ্ছে না। গণসমাবেশের মঞ্চ তৈরি ঘিরে এখন পর্যন্ত কোনরকম বাধাবিপত্তির মুখে পড়তে হয়নি বিএনপিকে। মঞ্চ তৈরিসহ আনুসঙ্গিক কাজ তদারকি করছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনসহ তাঁর অনুসারীরা । মাঠের চারপাশে এখনো চলছে ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানোর কাজ।
আগামী ২৬ নভেম্বরের বিভাগীয় গণসমাবেশে টাউন হল মাঠসহ কুমিল্লা নগরীতে লক্ষাধিক মানুষ অংশগ্রহণ হবে বলে মনে করছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, গণসমাবেশে অংশগ্রহণ করবে আমাদের পাঁচটি ইউনিট। কেন্দ্রীয় নেতারা এরই মধ্যে কুমিল্লায় এসে বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি সভা করেছেন। আরো কয়েকটি প্রস্তুতি সভা হবে। আমরা এই সমাবেশটাকে সফল করতে মুখিয়ে আছি। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখতে পাচ্ছি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি।
সাক্কুর পৃথক প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইয়াছিন বলেন, সমাবেশে কে আসবে আর কে আসবে না, সেটা যার যার নিজস্ব ব্যাপার। আমরা এনিয়ে এখন কথা বলতে চাই না। সমাবেশ ও বিএনপির চলমান আন্দোলনকে সফল করতে আমরা দিনরাত রাজপথে কাজ করে যাচ্ছি।
সমাবেশ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বহিস্কৃত বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ২৬ তারিখের সমাবেশ সফল করতে আমি দিনরাত মাঠে কাজ করছি। সমাবেশের আগে আমার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার না করা হলেও আমিও নেতাকর্মীদের নিয়ে সমাবেশে যাবো। সেখানে গেলেই যে মঞ্চে বসতে হবে, এমন চিন্তা করি না। প্রয়োজনে কর্মীদের সঙ্গে মাঠে থাকবো। কারণ আমি বিএনপিতে ছিলাম, আছি এবং আমরণ থাকবো।
জানতে চাইলে অপর বহিস্কৃত নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, আমি বহিস্কার না আবিস্কার সেটা এখন চিন্তা করার সময় নেই। আমার নেতা আগামীর রাষ্ট্রনায়ক , বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গনসমাবেশ দিয়েছেন। জীবনের শেষ রক্ত বিদু দিয়ে হলেও তা সফল করবই ইনশাআল্লাহ।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগীয়) মোস্তাক মিয়া বলেন, সমাবেশ সফল করতে সকল প্রকার প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নগরীর প্রতিটি পয়েন্টে মাইক থাকবে। এছাড়া অন্তত আটটি স্থানে বড় পর্দায় সরাসরি সমাবেশের কার্যক্রম দেখা ও বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা রাখা হবে। আমাদের প্রত্যাশা বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সমাবেশে আসবেন। টাউন হলের সমাবেশ হবে স্মরণকালের বড় সমাবেশ। এরই মধ্যে আমাদের সকল নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে।