রবিবার ১৬ জুন ২০২৪
Space Advertisement
Space For advertisement
  • প্রচ্ছদ » লিড নিউজ ১ » কুমিল্লার ‘তিননদী পরিষদ’ ৪১ বছরে ‘জামতলায়’ ২১ দিনব্যাপী একুশের অনুষ্ঠান শুরু আজ


কুমিল্লার ‘তিননদী পরিষদ’ ৪১ বছরে ‘জামতলায়’ ২১ দিনব্যাপী একুশের অনুষ্ঠান শুরু আজ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
01.02.2024

ক্স গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস জানতে পারছে নতুন প্রজন্ম
ক্স বিকশতি হচ্ছে সাংস্কৃতিক চর্চাও
ক্স শোনানো হয় ভাষা আন্দোলন আর স্বাধীনতার গল্প

আবদুর রহমান ।। সালটা ১৯৮৩। উদ্যোগ নেওয় হলো কুমিল্লায় একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন করা হবে। সংগঠনের উদ্দেশ্য হবে বৃহত্তর কুমিল্লার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া গোমতী, মেঘনা ও তিতাস- এই তিনটি নদীর পাড়ের সংস্কৃতি চর্চাকে বিকশিত করা। এভাবেই জন্ম হলো ‘তিন নদী পরিষদ’ নামের সংগঠনটির। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শত প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করে তিলতিল করে বেড়ে উঠে সংগঠনটি। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সেই ‘তিননদী পরিষদ’ এখন কুমিল্লার অন্যতম প্রধান একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। এই সংগঠনের মঞ্চকে ব্যবহার করে হয়েছে বিভিন্ন আন্দোলন আরও সংগ্রাম।
তবে শুধু আন্দোলন-সংগ্রামে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহারই নয়, সংগঠনটির অবাক করা আরেকটি দিকও আছে। সেটি হলো- প্রতিষ্ঠার পর থেকে কুমিল্লা নগরীর ‘নগর উদ্যানের’ জামতলায় নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস শুনিয়ে আসছে সংগঠনটি। তবে সেটি কিন্তু একদিনের জন্য নয়, প্রতি বছর ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি এলেই এই অনুষ্ঠান চলে ২১দিনব্যাপী। গত চার দশক ধরে ধরে চলে আসা এই ধারা আজ বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ৪১ বছরে পদার্পন করছে।
তিননদী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আবুল হাসানাত বাবুল জানিয়েছেন, মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ১৯৮৪ সালে তিননদী পরিষদ সর্বপ্রথম ২১ দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলো। সে সময় কুমিল্লা পৌর পার্কে থাকা একটি বিশাল জাম গাছের তলায় অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ওই অনুষ্ঠানটি। জাম গাছটি এখনো আছে। বর্তমানে ওই স্থানটিই কুমিল্লা নগর উদ্যানের ‘জামতলা’ নামে পরিচিত।
শুরুর গল্পটা বলতে গিয়ে কুমিল্লার প্রবীণ সাংবাদিক আবুল হাসানাত বাবুল বলেন- মা, মাতৃভূমি ও ভাষার প্রতি অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা সূচনা করেছিলাম তিননদী পরিষদের। ১৯৮৩ সালে তিননদী পরিষদ গঠিত হওয়ার পর চিন্তা করলাম কীভাবে নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ছড়িয়ে দেওয়া যায়। এরপর ১৯৮৪ সালে কুমিল্লার তৎকালীন জেলা প্রশাসক সৈয়দ আমিনুর রহমানের কাছে গেলাম। তিনি পৌরসভার মাধ্যমে একুশ নিয়ে অনুষ্ঠান করার জন্য পৌর পার্কের জাম গাছের নিচে একটি পাকা মঞ্চ করে দিলেন। এরপর থেকে বহু প্রতিকূলতার মাঝেও ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ২১ দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছি। বিগত দিনে এই মঞ্চেই কুমিল্লার ভাষা সৈনিকদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে কথা বলেছেন প্রয়াত অ্যাডভোকেট আহমেদ আলী, অধ্যাপিকা লায়লা নূর, আলী তাহের মজুমদার, মো.আবদুল জলিলসহ অসংখ্য গুণীজন। তারা নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিয়েছেন ভাষার গল্প।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অমর একুশ নিয়ে ২১ দিনব্যাপী তিন নদী পরিষদের এই অনুষ্ঠানমালা বাংলাদেশে একটি ব্যতিক্রমী ও বিরল দৃষ্টান্ত। দেশের অন্য কোথাও এই ধরণের অনুষ্ঠান হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ভাষা আন্দোলন নিয়ে কুমিল্লার রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। কুমিল্লার সন্তান শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলামসহ অনেক গুণীজন বাংলা ভাষার সম্মানকে তুলে ধরতে কাজ করেছেন। কুমিল্লার অজিত গুহ, মেজর গণিও ভাষার সম্মান রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন। ধীরেন্দ্রনাথ দত্তই পাকিস্তান গণপরিষদে সর্ব প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান। তিন নদী পরিষদ এসব গুণী মানুষের কথা, ভাষা আন্দোলনের কথা ও স্বাধীনতার কথাই নতুন প্রজন্মসহ সকল মানুষকে শোনাচ্ছে চার দশক ধরে। প্রতি বছরের মতো এবারও ১ ফ্রেব্রুয়ারি থেকে তিন নদী পরিষদের ২১ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার।