বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪
Space Advertisement
Space For advertisement
  • প্রচ্ছদ » লিড নিউজ ১ » কুমিল্লায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্ধেকে নামলো আলু উৎপাদন, সংকটের শঙ্কা


কুমিল্লায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্ধেকে নামলো আলু উৎপাদন, সংকটের শঙ্কা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
20.02.2024

ক্স প্রাকৃতিক দুর্যোগকে দুষছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
ক্স লোকসানের শঙ্কায় কৃষক

স্টাফ রিপোর্টার ।। কুমিল্লার মাঠে মাঠে চাষ হয়েছে আলুর। লক্ষ্য খাদ্য চাহিদা মেটানো এবং আমদানি নির্ভরতা কমানো। এরই মধ্যে কুমিল্লা বিভিন্ন উপজেলায় আলু ক্ষেতে সার ও ওষুধ ছিটানোসহ নানা পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কুমিল্লা ১৭টি উপজেলার মধ্যে বেশি আলু চাষ হয়েছে দাউকান্দি, চান্দিনা, দেবিদ্বার, বুড়িচং। কৃষকরা মনে করেন যদি আর বৃষ্টি না হয় তাহলে তাদের যে ক্ষতি হয়েছে তাহা পুষিয়ে নিতে পারবেন। যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলু চাষ করছিলেন কৃষক তবে বৃষ্টি কারনে নির্দিষ্ট সময়ে জমি প্রস্তুত করতে পারেননি। আলু উত্তোলন শুরু হবে মার্চ থেকে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বলছেন, মৌসুমে শুরুতে বেশ কয়েকবার বৃষ্টি হওয়ায় আলু চাষে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। তবে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে মাঠে মাঠে।
বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা উত্তর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন, হাজী মোঃ মনির হোসেন, গোল্ডেন জহিরসহ আরও একাধিক কৃষক জানান, এবার অতিবৃষ্টি এবং ঘন কুয়াশায় আলুর ফলনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তারপরও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ মোতাবেক জমিতে ওষুধ কীটনাশক, সার প্রয়োগে ফলন মোটামুটিভাবে ভালো হয়েছে। এবার প্রতি শতক জমিতে আলু চাষে মজুরি, সেচ, সার ও কীটনাশকসহ ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে জমি থেকে পরিপক্ব আলু উত্তোলন করে বাজার জাত করা হচ্ছে। আলু পাইকারি মন প্রতি আলু বিক্রি হচ্ছে ১২ শত টাকা থেকে সাড়ে ১২ শত টাকা বা ১৩ শত টাকা। এতে কৃষকের বিক্রিকৃত মূল্য হচ্ছে ৭০-৭৫ হাজার টাকা। এতে এখন কৃষক গণ লাভের মূখ দেখছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা আক্তার বলেন, এবার বৈরী আবহাওয়ায় অতি বৃষ্টি ও ঘন কুয়াশায় আলু চাষের অনূকূলে না থাকায় আলু চাষে এবার লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হয়নি। তারপরও আলু চাষিরা আমাদের পরামর্শ মতে সময় মত জমিতে সেচ, স্প্রে, ওষুধসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কাজ করেছে। সর্বপরি এখন কৃষকদের এখন দেখা যাচ্ছে সব খরচ শেষে চাষিরা প্রায় অর্ধেক টাকা লাভের মুখ দেখচ্ছেন। গত বছরের চেয়ে এবার আলুর ফলন ভাল হয়নি। গেল মৌসুমে আবহাওয়া সহ সব কিছু আলুর ফলনে অনূকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছিল। এবার আবহাওয়া অনূকূলে না থাকায় অর্জিত হয়নি তবে ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে।
দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের গৌরসার গ্রামের কৃষক মো. কাউছার মিয়া জানান, বৃষ্টির কারনে ফলন অনেক খারাপ হয়েছে। অনেক কৃষক আবার দুইবার আলু রোপন করতে হয়েছে। ৩০ শতক জমিতে মাত্র ৫০ মন আলু হয়েছে। যেখানে গত মৌসুমে ৩০ শতক জমিতে ৭০-১২০ মন আলু হয়েছিল। তবে বর্তমান বাজার মূল্যে যেভাবে কমতে শুরু করেছে, এভাবে কমতে থাকলে কৃষকরা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
চান্দিনা পৌরসভার হারং গ্রামের কৃষক মো. ফজলুল হক জানান, চলতি মৌসুমে আলুর ফলন ভালো হবে আশা করছি। আমাদের ১২০ শতাংশ জমিতে ২৫০ থেকে ২৮০ মন ফলন হতে পারে। তবে বৃষ্টির কারনে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে।
চান্দিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, চান্দিনা উপজেলা আলু চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৪শ ৮৫ হেক্টর। অর্জন হয়েছে ৪শ ৫১ হেক্টর। বৃষ্টির কারণে আলু চাষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলেও পরবর্তীতে এসব জমিতে ভুট্টা চাষাবাদ করা হয়েছে। আশা করছি ভুট্টায় ভালো ফলন পাওয়া যাবে।
কুমিল্লা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কর্মকর্তা আইউব মাহমুদ বলেন, কুমিল্লার ১৭ উপজেলায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ২২ টন করে এবার কুমিল্লায় ২ লাখ ৪২ হাজার টন আলু উৎপাদন হবে। তবে গেল মৌসুমে তুলনায় কম। তার উপর মৌসুমে শুরুতে বৃষ্টিপাতের বাঁধায় আবাদের লক্ষ্যমাত্রায়ও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।