সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement


রেস্তোরাঁয় হামলার সাতদিন পর কিশোর খুন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
20.08.2022

স্টাফ রিপোর্টার ।।

কুমিল্লা নগরীতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। নগরীর ধর্মসাগরপাড়ের দক্ষিণ পশ্চিম কোনে ১২আগস্ট শুক্রবার রেস্তোরাঁয় হামলার সাতদিন পর ১৯ আগস্ট শুক্রবার শাহাদাত নামের এক কিশোরকে খুন করা হয়েছে। ধর্মসাগরপাড়ের উত্তরপাড়ের নগর উদ্যানের পাশে কাস্টমস অফিস ও আওয়ার লেডি অব ফাতেমা গার্লস হাই স্কুলের সামনে এ খুনের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় জড়িতরা সবাই কিশোর। সবাই নিহত কিশোর শাহাদাতের পূর্ব পরিচিত বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে আটকের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। তবে মামলা এখনও মামলা হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা, নিহতের স্বজনরা ও কুমিল্লার সচেতন মহল বলছেন, সাত দিন আগে কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্য এই ধর্মসাগরপাড়ের একটি রেস্তোরাঁয় খাবার বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার সময় বিল চাওয়ায় রেস্তোরাঁর মালিককে মারধর করেন। এই ঘটনার পর রাব্বি নামের একজনকে পুলিশ আটক করে। অজ্ঞাত কারণে সেই রাব্বিকে পুলিশ ছেড়ে দেয়। এ ঘটনার সাত দিনের মাথায় শুক্রবার (১৯ আগস্ট) শাহাদাত নামের এক কিশোরকে প্রকাশ্যে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি বাহিনী কুপিয়ে হত্যা করে। সুধীমহল বলছেন, যদি পূর্বের ঘটনায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হলে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটতো না। কুমিল্লা সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, সাত দিন আগে যেহেতু কিশোর গ্যাং রেস্তোরাঁয় হামলা করেছে। তখন যদি পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা শক্ত অবস্থানে থাকতো তাহলে হত্যাকাণ্ডের সাহস কেউ পেত না। যদিও দুইটি গ্রুপ ভিন্ন হতে পারে। অথচ ওই ঘটনায় নাকি জিডিও হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে কি করে হবে!

কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল ইসলাম বলেন, এদিকে ঘটনা দিন দিন বাড়ছে সেটা বুঝি। আমরা কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। রেস্টুরেন্টের ঘটনাটায় তাদের মধ্যে মিমাংসা হয়ে যাওয়ায় আর অভিযোগ আসেনি।

নিহত শাহাদাতের বাবা বলেন, একটা ঘটনার সাথে আরেকটা ঘটনা জড়িত। তখন সতর্ক হলে আর আমার ছেলেটার হয়তো প্রাণ দিতে হতো না। কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহিদুর রহমান বলেন, আমরা ওই এলাকাটায় নজর রাখছি। ৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছি। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য-শুক্রবার বিকেলে  শিশু পার্কে  রাইডে চড়তে আসে একদল কিশোর। তারা সবাই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। শিশু পার্কে প্রবেশের পর তারা রাইডের স্টাফ শাহাদাতের কাছে ফ্রিতে রাইড চড়তে চায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। শাহাদাত পার্ক সংলগ্ন মিশনারি স্কুলের সামনে এলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাকে চাপাতি ও ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। নিহত শাহাদাত নগরীর গাংচর এলাকার বশু মিয়ার বাড়ির প্রাইভেটকার চালক মো. শাহ আলম ভূইয়ার ছেলে।