রবিবার ২৫ †m‡Þ¤^i ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement


চেতনাশক খাইয়ে ঘরে আগুন লাগিয়ে সেই নববধূকে হত্যা!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
16.03.2022

স্টাফ রিপোর্টার ।। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত হওয়া ইয়াসমিন আক্তারকে(২১) চেতনাশক খাইয়ে ঘরে আগুন লাগিয়ে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন ইয়াসমিন আক্তারের পরিবার।
ইয়াসমিন আক্তার বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের ডেউয়াতলী গ্রামের আলতাফ মিয়ার প্রথম সংসারের ছেলে রেজাউলের স্ত্রী। রেজাউল ভালোবেসে চাঁদপুর জেলাধীন মতলব উপজেলার উপাদী উত্তর ইউনিয়নের ডিঙ্গা ভাঙ্গা গ্রামের মুন্সীবাড়ীর মৃত মোঃ আক্তার মুন্সীর ছোট মেয়ে মোসাম্মাৎ ইয়াসমিন আক্তারকে (২১) ভালোবেসে বিয়ে করেন। নিহত ইয়াসমিন আক্তারের ছোট ভাই রাকিব হাসান বলেন,আমার বোনের জামাই রেজাউল বড় আপাকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। গত তিন বছর পূর্বে তাদের কয়েকজন আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে বিয়ে করে তিনি মালদ্বীপ চলে যান। ২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি তিনি ছুটিতে দেশে আসেন। তার পরিবারের লোকজনসহ কাবিন করে আমার বোনকে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। রেজাউলের সৎ মায়ের সাথে প্রায় ঝগড়া করতো বোনের সাথে। বোনকে চাপ দিতেন টাকা পয়সা আনার জন্য, বিভিন্ন ভাবে মানসিক অত্যাচারসহ শারীরিক নির্যাতন করতেন। আমার বোনের মৃত্যুর দুইদিন পূর্বে প্রচুর মারধর করেছে। আপা সেই ছবি আমাদেরকে ইমুতে পাঠিয়ে ছিল। ১০ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত ৯টার সময় আমাদের সাথে ফোনে কথা বলেছিল। সেই সময় তাদের বাড়ির পাশের মাহফিল থেকে চটপটি এনে আমার বোনকে খাওয়ানোর পর ফোনে আপা বলছে আমার শরীর ভালো লাগছে না। আমি এখন ঘুমাব এই বলে ফোন রেখে দেন। ১১ মার্চ সকাল বেলা দুলাভাই রেজাউল আমাদেরকে ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করে বলে, ঘরে আগুন লেগে ইয়াসমিন পুড়ে মারা গেছে। ১১ মার্চ ইয়াসমিন আক্তারের আত্মীয়স্বজনেরা রেজাউলের বাড়িতে এসে ইয়াসমিনের লাশ দেখে সন্দেহ করেন এবং পরবর্তীতে বরুড়া থানায় একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দায়ের করার জন্য আসেন। ইয়াসমিন আক্তারের মামা মোস্তফা মিয়াজী বলেন,বরুড়া থানায় এসে আমরা অভিযোগ পেশ করলে ওসি সাহেব আমাদেরকে আশ্বস্ত করে বলেন, আপনারা নিশ্চিত থাকুন আমরা পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেয়ে সঠিক ভাবে তদন্ত করব। ইয়াসমিন আক্তারের ছোট ভাই রাকিবের দেওয়া তাঁর দুলাভাই রেজাউলের ফোন নম্বরে ফোন দিয়ে বন্ধ পাওয়ায় রেজাউলের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
বরুড়া থানার ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, বরুড়া থানা পুলিশ আন্তরিক ভাবে ঘটনাটিকে তদন্ত করছেন। থানায় একটা অপমৃত্যুর মামলাও হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঝলম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, ডেউয়াতলী গ্রাম থেকে রেজাউল আমাকে ফোনে অবহিত করলে ঘটনাস্থলে যাই। তাদের পরিবারের কথা শুনে তাদের কে সান্ত¦Íনা দিয়ে আসি। পরবর্তীতে মেয়ের পরিবার অভিযোগ করে এটা একটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা আশা করি প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যে অপরাধী হবে তাকে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।
উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ ভোর ৫.৪৫ মিনিট সময়ে বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের ডেউয়াতলী গ্রামের আলতাফ মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াসমিন আলতাফ মিয়ার ছেলে রেজাউলের স্ত্রী। ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে নিহতের শ্বশুর আলতাফ মিয়া বলেন, ছেলে নিজের ইচ্ছায় বিয়া কইরা ঘরে বউ নিয়া আসছে,প্রায়ই ঝগড়া হতো দুজনের মধ্যে। আর ইয়াসমিনের শাশুড়ি জানান, আগুনে পোড়ার কিছুদিন পূর্ব তার ছেলে রেজাউল ইয়াসমিনকে মারধর করে। গত দুই মাস পূর্বে নববধূ সেজে আলতাফ মিয়ার বাড়িতে আসেন ইয়াসমিন। হাতের মেহেদী না শুকাতেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় ইয়াসমিনের স্বপ্ন।