শুক্রবার ১২ অগাস্ট ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement


আ‘লীগ-বিদ্রোহী তুমুল লড়াইয়ের সম্ভাবনা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
10.11.2021

আজ তিতাস-মেঘনায় ভোট

স্টাফ রিপোর্টার।।
আজ ১১ নভেম্বর কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ৯টি ও মেঘনার ৭টি ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সূত্রমতে,নৌকার বিরুদ্ধে আ’লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিতাস থেকে আমাদের প্রতিনিধি মো. মহসিন হাবিব জানান,আজ ১১ নভেম্বর কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হবে ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ নির্বাচন। নৌকার বিরুদ্ধে আ’লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন সাধারণ ভোটাররা। এবারের নির্বাচনে বিরোধী দল বিএনপিসহ অধিকাংশ দল অংশগ্রহণ না করায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকের বিরুদ্ধে দলের বিদ্রোহীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় দলীয় মনোনীত প্রার্থীরা কিছুটা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ থাকলেও গণসংযোগ ও সভা মিছিলে পিছিয়ে নেই বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
তবে একাধিক ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দলের উপজেলা থেকে একদম ওয়ার্ড পর্যায়ের দলীয় সহযোগী অঙ্গসংগঠনের অধিকাংশ নেতা-কর্মীরা বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রকাশ্যে ও গোপনে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরজমিনে ঘুরে সচেতন মহল ও সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে যানা যায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে নৌকার বিরুদ্ধে ৮টি ইউনিয়নে বিদ্রোহীদের দাপটে লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা। সেই সাথে ২টি ইউনিয়নে লড়বে লাঙ্গল মার্কা থাকায় লড়াই হবে ত্রিমুখী। নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী, লাঙ্গল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় উপজেলা জুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ।
আরো জানা যায়, ১নং সাতানি ইউনিয়নে ৪জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ২জন বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তারা নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ায় এখানে নৌকার বিরুদ্ধে আ’লীগের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সামসুল হক সরকার (নৌকা), প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মো. মিজানুর রহমান (ঘোড়া)। এ ইউনিয়নের সাধারণ ভোটাররা মনে করেন নির্বাচন সুষ্ঠু হলে এখানে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২নং জগতপুর ইউনিয়নে ৫জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ২জন প্রার্থী। আ’লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান চেয়ারম্যানের (নৌকা), সাথে ইউনিয়ন আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক কাজী কাইয়ুম (ঘোড়া)।
এই ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিদের মধ্যে সরকার দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ৩নং বলরামপুর ইউনিয়নে নৌকা, লাঙ্গল, হাতপাখাসহ ৫জন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এখানে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ মনোনিত বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নুরনবীর (নৌকা) সাথে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ নেতা আতিকুর রহমান আতিক (আনারস) স্বতন্ত্র। ৪নং কড়িকান্দি ইউনিয়নে ৪জন প্রার্থীর মধ্যে ৩জন নির্বাচন থেকে সরে গেলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাইফুল আলম মুরাদ।
৫নং ভিটিকান্দি ইউনিয়নে ৯জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী সাংবাদিক বাবুল আহমেদের (নৌকা) সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আবু মোল্লা (আনারস)। এই ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের দাবি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে লড়াইটা হবে মজার ।
৬নং কলাকান্দি ইউনিয়নে ৪জন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এখানে ত্রিমুখী লড়াই হবে এবং সুষ্ঠু ভোট হলে নৌকা ও বিদ্রোহী প্রার্থীকে পিছনে ফেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী চশমা টেক্কা মারতে পারে বলে জানায় ভোটাররা। এখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ বাহার (নৌকা), আ’লীগ নেতা ইব্রাহিম সরকার (আনারস) ও চশমা প্রতীকে মোবারক হোসেন সরকার।
৭নং নারান্দিয়া ইউনিয়নের ৫জন প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি নৌকায় মনোনীত আরিফুজ্জামান খোকার বিরুদ্ধে বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার সালাহউদ্দিন আহমেদ। ভোটারদের ভাষ্যানুযায়ী সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ হলে এখানে নৌকার জয়টা কঠিন হবে।
৮নং জিয়ারকান্দি ইউনিয়নে ৫জন প্রার্থীর মধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থী নৌকা প্রতীক পেয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যান হাজি আলী আশ্রাফ। এখানে বিদ্রোহী হিসেবে রয়েছেন ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি আজমল সরকার আযম খান। এই ইউনিয়নে আলী আশ্রাফের সাথে পাল্লা দিয়ে কেউ কুলিয়ে উঠতে পারবে না বলে জানান এলাকাবাসী।
এদিকে ৯নং মজিদপুর ইউনিয়নে ৫জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে নৌকার মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম । সাথে লাঙ্গলের জনপ্রিয়তা। সব মিলিয়ে সাধারণ ভোটাররা এই ইউনিয়নে ত্রিমুখী লড়ায়ের জম জমাট ভোটযুদ্ধ হবে বলে জানান।
এখানে নৌকা মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম (নৌকা), বিএনপি ঘরানার স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ফারুক মিয়া সরকার (চশমা) ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন জাপা সভাপতি মো. ঈমাম হোসেন (লাঙ্গল)।
এদিকে আজ দ্বিতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন কুমিল্লা মেঘনা উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবমুখর প্রচার-প্রচারণা শেষে প্রার্থীরা এখন ব্যস্ত ভোটের হিসেব নিকেষে।
মেঘনার আটটি ইইনয়নের মধ্যে চন্দনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় বাকি সাতটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
যার মধ্যে বরকান্দা, চালিভাঙ্গা, মানিকারচর, রাধানগর, গোবিন্দপুর, ভাওরখোলা ও লুটেরচর।
তবে এসব ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোটে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।