মঙ্গল্বার ১৭ †g ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement


গোপনে ‘পকেট কমিটি’ করাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.04.2022

স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কাকৈরতলা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের কাউকে না জানিয়ে গোপনে ‘পকেট কমিটি’ করতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এদিকে, এ ঘটনায় অভিভাবকদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এরপরও ওই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকদের অভিযোগ- বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান
শিক্ষক মোখলেছুর রহমান তাঁর পছন্দের একজনকে বিনাভোটে সভাপতি বানাতে এসব কর্মকাÐ করছেন। আর ওই ব্যক্তি সভাপতি হলে মোখলেছুর রহমান ভারমুক্ত হয়ে প্রধান শিক্ষক হবেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার পেড়িয়া ইউনিয়নের কাকৈরতলা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনার এডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান অভিভাবকদের অন্ধকারে রেখে এবং গোপনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করেন। এরই মধ্যে অভিভাবকদের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে নূর হোসেন, হায়াতুন নবী, দেলোয়ার হোসেন ও জালাল উদ্দীন নির্বাচন বিহীন অবৈধ কমিটি অনুমোদন না করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লামইয়া সাইফুলের কাছে গত ১৭ জুলাই একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে তারা উলে­খ করেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কোন প্রকার তফসিল ঘোষণা না করে এবং কোন অভিভাবককে না জানিয়ে অত্যন্ত কুট-কৌশলের মাধ্যমে অবৈধভাবে কমিটি অনুমোদনের জন্য নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রিজাইডিং অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাছির উদ্দীনের কাছে জমা দেন। এনিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা পুনরায় তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ইউএনও’র হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পরে ইউএনও বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাছির উদ্দীনকেই তদন্তের দায়িত্ব দেন। অভিভাবকরা জানায়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গত ১৮ এপ্রিল বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। এ সময় সকলে তার কাছে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও কমিটি গঠন প্রক্রিয়া চলমান রেখেছেন। এছাড়া ইউএনও খোদ নির্বাচনের দায়িত্বরত প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকেই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ায় তদন্তের সত্যতা নিয়েও বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
অভিযোগকারী পাশের কাদবা গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৫’শ শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের কেউ-ই জানে না। শুধুমাত্র যারা এ কমিটিতে থাকবেন তাদের নিয়ে গোপনে পকেট কমিটি গঠন করাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তাঁর পছন্দের একজনকে সভাপতি বানাতে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অথচ ওই ব্যক্তি পাশের আরেকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও সভাপতি। আমরা সঠিক নির্বাচন চাই। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরা নিয়ম মেনেই তফসিল ঘোষণা করেছি। একাধিক প্রার্থী না থাকায় একজনকে সভাপতি ঘোষণা করা হবে, এটাই স্বাভাবিক। আর কাউকে বিনাভোটে সভাপতি বানিয়ে আমার কী লাভ? এগুলো আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাছির উদ্দীন বলেন, ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া মাত্র শুরু হয়েছে। এখনও প্রক্রিয়াটি প্রাথমিক স্তরে আছে। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ উঠায় আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত শেষে ঘটনায় বিস্তারিত ইউএনও স্যারকে জানানো হবে। এরপর তিনি এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। শনিবার দুপুরে এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লামইয়া সাইফুলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।