বৃহস্পতিবার ১১ অগাস্ট ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » নদীতে কাঙ্খিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ চাঁদপুরের জেলেরা


নদীতে কাঙ্খিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ চাঁদপুরের জেলেরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
04.11.2021

কে এম মাসুদ, চাঁদপুর ।।
চাঁদপুরের পদ্মা-ঘেমনা নদীতে কাঙ্খিত ইলিশ না পাওয়ায় জেলেদের মুখে হতাশা লক্ষ্য করা গেছে। আর মাছঘাট গুলোতে ইলিশের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় পাইকারী ও খুচরা ক্রেতারাও ইলিশ কেনায় অসুন্তুষ্ঠি প্রকাশ করছেন। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন আমদানি বাড়লে ইলিশের দাম অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
চাঁদপুরের বড়ষ্টেশন মাছঘাট, হরিণা ফেরিঘাট, পুরানবাজার এলাকাগুলো ঘুরে এসব তথ্য জানা যায়। চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছবাজারে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বড় সাইজের ইলিশ (এক কেজী) ১২শ থেকে ১৩শটাকা কেজী, মাঝারি সাইজের ইলিশ (৭শথেকে ৮শ’ গ্রাম) ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকা, মধ্যম সাইজের ইলিশ (৫শ থেকে ৬শ’ গ্রাম) ৬শ থেকে ৭শ’ টাকা ও ছোট সাইজের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৪শ’ টাকা কেজী দরে।
চাঁদপুরের হরিণাঘাটের ক্রেতারা জানান, ঘাটে আসা ইলিশের পেটে এখনো পর্যাপ্ত ডিম রয়েছে। ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকার সময় আরো বাড়ালে এমনটি হতো না। ইলিশের পেটে ডিম থাকায় আড়তদাররা ইলিশের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই দাম বেশি হওয়ায় ইলিশ কেনার আগ্রহ হারিয়ে অন্য মাছ কিনে বাড়ি ফিরছি।
চাঁদপুরের জেলেরা জানান, নদীতে নেমে কাঙ্খিত ইলিশ পাচ্ছি না। যে ইলিশ পাচ্ছি তাতে নৌকার জ্বালানি খরচ উঠাতেও হীমশিম খাচ্ছি। কিভাবে সংসার চালাবো এখন সেই চিন্তাই করছি।
জেলেরা আরো বলেন, যে আশা করে নদীতে গিয়েছিলাম, সেই আশা পূরণ হয়নি। আমরা ১০ থেকে ১২ জন লোক ১টি নৌকা নিয়ে নদীতে যাই। নদী থেকে ফিরে মাছ বিক্রি করেছি মাত্র ১২ হাজার টাকার। নদীতে ইলিশ না থাকলে আমরা আরও ধারদেনায় পড়ে যাব।
এদিকে চাঁদপুর বড়ষ্টেশন মাছঘাটে গিয়ে আড়তদারদের বেশ কর্মতৎপর দেখা যায়। তাদের হাঁকডাকে মুখর ছিল পুরো মাছঘাট। সেখানে পাইকারী ক্রেতার চেয়ে খুচরা ক্রেতাদের ভীড় লক্ষনীয়। দাম বেশী থাকায় পরিমানে কম হলেও তারা চাঁদপুরের পদ্মার তাজা ইলিশ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। খুচরা ক্রেতার উপস্থিতি বেশী থাকায় জেলেরা ইলিশ কম পেলেও দাম বেশী পাচ্ছেন।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত জানান, এটি দক্ষিনাঞ্চলের সবচেয়ে বড় মাছঘাট হওয়া সত্ত্বেও ইলিশের আমদানি একে বারেই কম। আমরা পাইকারী বাজারে ১ কেজি সাইজের ইলিশের দাম নিচ্ছি ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকা। ১ কেজি থেকে ১২০০ গ্রামের ইলিশের দাম ১২শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা, ১ কেজির নীচে ৬০০ গ্রাম থেকে ৯০০ গ্রাম ইলিশের দাম ৭৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা করে রাখছি। আমদানি বাড়লে ইলিশের দাম আরো কমে আসবে আশা রাখি।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আবদুল বারী জমাদার মানিক বলেন, যে ইলিশগুলো আমদানি হচ্ছে, তা সবই আমাদের চাঁদপুরের লোকাল ইলিশ। তবে আশা করেছিলাম এখন থেকে দুই থেকে আড়াই হাজার মণ ইলিশ ঘাটে আমদানি হবে। অথচ ৮০০ থেকে ১ হাজার মণ ইলিশ আমদানি হতেই ইলিশ সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। তিনি বলেন, ঘাটে ইলিশের অনেক চাহিদা আছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী ঘাটে মাছ আসেনি। তারপরও আলহামদুলিল্লাহ যে পরিমাণ মাছ এসেছে, এতে আমরা খুশি আছি।
চাঁদপুরের ইলিশ বৈজ্ঞানিক ডা. আনিছুর রহমান জানান, ইলিশের পেটে ডিম থাকা এটা স্বাভাবিক বিষয়। নদীতে প্রচুর ইলিশ রয়েছে। জেলেদের হতাশা হবার কারন নেই।