রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
Space Advertisement
Space For advertisement


কুমিল্লা সদরের যে গ্রামে চোরের ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারে না মৎস্য চাষীরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.10.2023

# স্থানীয় পমম্বারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব – চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল
# মানিক মিয়ার সাথে কথা বলে পালপাড়া এলাকার টহল জোরদার করা হবে – ওসি সনজুর মোর্শেদ
# পালপাড়া ব্রিজ থেকে কামারখাড়া ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তাটি সন্ধ্যা হলেই মনে হবে এক ভুতরে এলাকা
এম.হাসান ।। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পালপাড়া গ্রামের পুকুর মৎস্য চাষীরা চোরের ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারে না। প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই পালাক্রমে ফজরের আজান দেওয়ার আগ পর্যন্ত নিজ নিজ পুকুর তারা পাহারা দেন। এ সংক্রান্ত খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় জনপ্রিয় অনলঅইন নিউজ পোর্টাল কুমিল্লার জমিন ও বৃহত্তর কুমিল্লার পাঠক নন্দিত পত্রিকা দৈনিক আমাদের কুমিল্লার টিম সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয় এবং কুমিল্লার জমিনে এ খবর সরাসরি সম্প্রচার হলে চতুর্দিকে তোলপাড় শুরু হয়।
কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে গোমতী নদীর উত্তর পাড় পালপাড়া ব্রিজ থেকে নেমে হাতে বাম দিকে যে রাস্তাটি গিয়েছে সেটিই কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রাম।
৩টি মোটর সাইকেলে ৬জন সংবাদকর্মী সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পায়, লাঠি হাতে নিয়ে ৬৫/৭০ বছর বয়সের এক বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে এদিক সেদিক টর্চ লাইট জ¦ালিয়ে কি যেন দেখছে। সাথে রয়েছে এলাকার আরো ৪/৫জন যুবক। লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধ টর্চ লাইট টিপ দিয়ে প্রতিবেদকের গাড়িটি থামিয়ে প্রথমেই জানতে চান আপনারা কোথায় যাচ্ছেন। কৌতুহল বেড়ে যায় প্রতিবেদকসহ অন্যান্য সংবাদকর্মীদের। পেশাগত পরিচয় দিয়ে যখন গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলেন এত রাতে আপনারা কি করছেন, তখনই ফ্যাল ফ্যাল করে উঠে মানিক মিয়ার চোখ, মুখ। ভারাক্রান্ত মনে বলে উঠেন, বাবা, নসিবের কারণে এই বয়সে রাত জেগে পুকুর পাহারা দেই চোরের ভয়ে। আগে অনেক গুলো পুকুরে মাছ চাষ করতাম। এখন চোরের ভয়ে সব ছেড়ে দুটি পুকুরে মাছ চাষ করে সংসার চালাই। সন্ধ্যা হলেই চোরেরা পুকুরের আশে পাশে ঘুর ঘুর করে। সুযোগ পেলেই জাল ফেলে মাছ চুরি করে নিয়ে যায়। তিনি দু:খ করে বলেন, অন্যান্য সড়কে রাতে লাইট জ¦ললেও আমাদের এই সড়কে লাইট জ¦লে না। পালপাড়া ব্রিজ থেকে কামারখাড়া ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তাটি সন্ধ্যা হলেই মনে হবে এক ভুতরে এলাকা।
কারা মাছ চুরি করে জানতে চাইলে মৎস্য চাষী মানিক মিয়া দু:খ করে বলেন আমি নিরীহ মানুষ, আমি কিছু বললে ওরা আমার উপর হামলা করতে পারে, কারণ আমি রাতে একা একা পুকুরের মাছ পাহারা দেই। আমি গ্রামের মেম্বারকে জানিয়েছি। উনি বলেছেন আমাকে চোর ধরার জন্য, আমি চোর ধরতে পারলে তিনি বিচার করে দিবেন ।
রাত সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার জমিন এর লাইভে এসে মানিক মিয়া আরো জানান, গত চার বছরে আমার প্রায় ৮ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে। বছরের শেষে মাছ বিক্রি করার সময় দেখি মাছ হিসাবের তুলনায় অনেক কম হয়েছে । মাছের হিসাব পাই না । এখন মাছ চাষ করি তিন বিঘা জমিতে । আগে অনেক বেশি করতাম এই মাছ চোরদের জ্বালা যন্ত্রণায় বাকি পুকুর গুলো ছেড়ে দিয়েছি । এখন শুধুমাত্র দুইটা পুকুরে মাছ চাষ করি নিজে পাহারা দিয়ে। ভয়ে থাকি মাছ চোরেরা চুরির সুযোগ না পেয়ে কখন জানি আবার বিষ দিয়ে মাছ গুলো মেরে ফেলে। এই ভয়ে আবার কাউকে কিছু বলিও না।
এ সময় মানিক মিয়ার সাথে থাকা অন্য যুবকরা বলেন, এই পালপাড়া গ্রামে শুধু মাছ নয়, গরু,ছাগল হাঁস-মুরগীও চুরি হয় প্রতিনিয়ত। ইদানিং গ্রামে চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে উল্লেখ করে যুবকরা বলেন, সড়কে যদি রাতে অন্যান্য সড়কের মত লাইটিং ব্যবস্থা করতো তাহলে আমাদের গ্রামে চুরি,ছিনতাই কমে যেত। তারা অবিলম্বে সড়ক বাতি জ¦ালানোর দাবি জানান।
পালপাড়া গ্রামের মোস্তফা মিয়া জানান, এলাকায় লাইট নাই, পুলিশের টহল নাই। ফলে অন্ধকার হলেই মাছ চুরি বেশি হয়। মানিক মিয়া সারারাত জেগে মাছ পাহারা দেয়। আমরা চাই গোমতীর উত্তর পারে লাইটের ব্যবস্থা করা হোক, তাহলে চোরের উপদ্রব অনেক কমে যাবে ।
স্থানীয় আমড়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হক জানান, আমি কখনো এ ধরনের অভিযোগ শুনিনি । এখন যেহেতু শুনতে পেয়েছি, আমি ওই এলাকার মেম্বারের সাথে কথা বলব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব ।
কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সন্জুর মোর্শেদ দৈনিক আমাদের কুমিল্লাকে বলেন, থানায় এই বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। যেহেতু মানিক মিয়া এই বিষয়ে কথা বলেছেন আমাদের পুলিশ ফোর্স উনার সাথে যোগাযোগ করবে এবং পালপাড়া এলাকার টহল জোরদার করা হবে ।