বুধবার ২৪ GwcÖj ২০২৪
Space Advertisement
Space For advertisement


ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না সদর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.05.2023

সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ ।।  কুমিল্লা সদর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে সকলের সামনেই প্রকাশ্যে চলছে ঘুষ বাণিজ্য। জমির নিবন্ধন, নামজারি, জাল দলিলে জমি দখলসহ নানা ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন জমির মালিকসহ ভুক্তভোগীরা। এই অফিসে ঘুষ ছাড়া কোন ফাইল নড়ে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, কোনো দলিল রেজিস্ট্রির জন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে অনেক হয়রানি হতে হয়। দিতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয়না বিষয়টি প্রকাশ্যে না জানালেও দলিল লেখকদের মাধ্যমে তা গ্রহন করেন এমন তথ্য জানা যায়।
জানা যায়, ঘুষ নিচ্ছেন ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। ৭৫ বছর বয়সী আমীর উদ্দিন তার দলিলের নকল উঠাতে এসেছেন লালমাই উপজেলার বেলঘর দক্ষিণ এলাকা থেকে। এসে অফিসের ভেতরে যাওয়ার আগে দরজার সামনে থেকে মহিন নামে এক লোক ডাক দিয়ে বলেন কি করতে আসছেন। ভুক্তভোগী বয়স্ক ব্যক্তি আমীর বললেন দলিলের নকল কাগজ উঠাতে আসছি। উত্তরে বললেন সকল কিছু করে দিব , তার বিনিময়ে টাকা দিতে হবে ১৫০০ টাকা। এতে সরল মনে ৮০০ টাকা দিয়ে দিলেন। দলিল লেখক পরিচয়দানকারী মহিন বললেন আগামী সপ্তাহে এসে নিয়ে যাবেন। সে কথামতো বুধবার সাব রেজিস্ট্রার অফিসে তার কাছ থেকে কাগজ নিতে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে আছেন ভুক্তভোগী আমীর।
আরেক ভুক্তভোগী নারী সামিয়া এসেছেন মুরাদনগর উপজেলার দাওরা এলাকা হতে। তিনি বলেন আমার দাদার সম্পত্তির কাগজপত্র এই অফিসে আছে। এই কাগজ পত্র গুলো উঠাতে আসছি। আসার পর অফিসের ভেতরে যাব এমন সময় দলিল লেখক বললেন ৩ হাজার টাকা দেন সকল কাগজপত্র তুলে দিব। এমনিভাবে আরও অনেক ভুক্তভোগী প্রতিদিন এইভাবে হয়রানির শিকার হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাব রেজিস্ট্রার হানিফ বলেন, কয়েকমাস আগে কিছু সাংবাদিক আমাদের নিকট ১ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা নিউজ করে। আর বিশেষ করে এখানে দলিল লেখকদের যে সমিতি আছে তা অনেক শক্তিশালী। তাদের শক্তিতে ইচ্ছে করলে আমাদেরকে এখান থেকে বদলি করে দিতে পারে। তাদের কাছে আমরা জিম্মি।
কুমিল্লা জেলা রেজিস্ট্রার আনোয়ারুল হক বলেন, দলিল লেখকরা এমন হয়রানি করে বিষয়টি আসলে আমার জানা নেই। তবে সঠিক তথ্য পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।