সোমবার ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
Space Advertisement
Space For advertisement
  • প্রচ্ছদ » লিড নিউজ ১ » সেঞ্চরির পথে হাঁটছে আটা : এক বছরে দাম বেড়েছে ৭৯ শতাংশ # অস্বস্তিতে ক্রেতারা


সেঞ্চরির পথে হাঁটছে আটা : এক বছরে দাম বেড়েছে ৭৯ শতাংশ # অস্বস্তিতে ক্রেতারা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
10.11.2022

স্টাফ রিপোর্টার ।। বাজারে আটার দামে স্বস্তি নেই। আস্তে আস্তে সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম উপাদান আটা। বর্তমানে ৬৫ টাকার নিচে মিলছে না খোলা আটা। অথচ গত বছর এই আটার দাম ছিল ৩০-৩৫ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে যা বেড়েছে ৭৯ শতাংশ। সরকার যদি এখনি আটার দিকে বিশেষ নজর না দেন তাহলে দ্রুতই আটা সেঞ্চুরি করবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
শুধু আটা নয়, একইভাবে ময়দার দাম বেড়েছে। খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকায়, যা গত বছর একই সময়ে ৪০-৪৫ টাকার মধ্যে ছিল।
আটা-ময়দার বাজারে এই অস্থিরতার পেছনে ব্যবসায়ীরা গমের সরবরাহ সংকটকে দায়ী করছেন। এছাড়া এলসি খোলার সমস্যা তো রয়েছেই। এরমধ্যে আবার গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট পরিস্থিতি আরও কঠিন করেছে।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যে, এক বছরের ব্যবধানে বাজারে আটার দাম ৭৯ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে। মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ। এছাড়া বছর ব্যবধানে ময়দার দাম ৭০ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ১৬ শতাংশ।
এ বাড়তি দামের পরও কুমিল্লার কোনো কোনো এলাকায় চাহিদা অনুসারে মিলছে না আটা-ময়দা। কোথাও আটা পাওয়া গেলে ময়দার দেখা নেই। আবার কোথাও কোনটিই পাচ্ছেন না ক্রেতারা। খুচরা বিক্রেতাদের বক্তব্য, দাম বেশি। তাই কম আনি। বিক্রি হয়ে গেলে আবার আনি। আগের মত বেশি এনে দোকানে ফেলে রাখি না। তাই ক্রেতারা অনেক সময় পেতে দেরি হয়।
পাইকারি দোকানিরা বলেছেন, প্যাকেটজাত আটার সরবরাহ কিছুটা কমেছে। এক সপ্তাহ আগে খুচরা ব্যবসায়ীরা ডিলারদের কাছ থেকে যেসব আটা ও ময়দা সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলোই বিক্রি করছেন তারা। অন্যদিকে পাইকারি বাজারে খোলা আটা-ময়দার চড়া দামের কারণে অনেকে রাখছেন না।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁওয়ের কয়েকটি দোকানে কথা বলে জানা গেছে, কেজি প্রতি আকিজ গ্রুপের আটা ৬৪ টাকা, পাবন গ্রুপের আটা ৬৬ টাকা, ময়দা ৭০ টাকা, একই গ্রুপের খোলা আটা ৬০ টাকা, বসুন্ধরা গ্রুপের আটা ৬৪ টাকা এবং তীর আটা ৭৫ টাকা।
এ দিকে রাজধানীর রামপুরার শামসু স্টোরের শামসুল হক বলেন, পাইকারি পর্যায়ে খোলা আটার বস্তা বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ১০০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিপ্রতি কেনা পড়ছে ৬২ টাকা। তারপরও দুই বস্তা অর্ডার দিলে মিলছে এক বস্তা। কোনো কোনো কোম্পানির তো আটাই নেই।
এ দোকানে খুচরায় ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে আটা। আর প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। তবে খোলা ও প্যাকেটজাত কোনো ধরনের ময়দা নেই গত তিনদিন ধরে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, গমের সরবরাহ সংকট চলছে। এলসি খুলতে সমস্যা। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট তো আছেই। সব মিলিয়ে বাজারে একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আসাদুল ইসলাম বলেছেন, প্রথমত কথা হচ্ছে, ভোক্তা অধিকার কিন্তু দাম নিয়ন্ত্রন করে না। কেউ যদি ন্যায্য দামে বিক্রি না করে আর আমাদের কাছে যদি এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে তাহলে আমরা অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারি।
আটার ক্ষেত্রে তিনি বলেন, প্যাকেটজাত আটার যে মূল্য আছে সেই মূল্যের অতিরিক্ত যদি কেউ রাখে তাহলে আমাদের জানালে আমরা ব্যবস্থা নিব। তবে খোলা আটায় যেহেতু কোন দাম নির্ধারিত নেই , সেই ক্ষেত্রে ক্রেতাকে বলব, আপনারা কয়েকটি দোকান দেখে যাচাই করে কিনুন।
দ্বিতীয়, কোন অসাধু ব্যবসায়ী যদি আটা বা অন্য যে কোন পণ্য হোক না কেন কৃত্রিম সংকট করার চেষ্টা করে তাহলে এর বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি।