রবিবার ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
Space Advertisement
Space For advertisement


দাউদকান্দির দশপাড়ায় খন্দকার মোশতাকের দুই স্বজনের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
01.11.2022

স্টাফ রিপোর্টার ।। কুমিল্লার দাউদকান্দির দশপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাকের আপন ভাতিজা খন্দকার নাসিরুল কবির ও নাতনি কাজী রেহা কবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসী জানান, গত কয়েক বছর ধরে এলাকায় নিজেদের অনুগত একটি ক্যাডার বাহিনী তৈরি করেছেন তারা। যাদের কাজ হলো বিরোধপূর্ণ জমি নিজেদের কব্জায় নেয়া অথবা মীমাংসার কথা বলে দু’পক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়া। তাছাড়াও প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ঘায়েল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতা ও আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুরসহ বিস্তর অভিযোগ এ বাহিনীর বিরুদ্ধে। সরেজমিনে গিয়ে ১নং সুন্দলপুর মডেল ইউপি’র ওয়ারিশ সনদপত্রে দেখা যায় খন্দকার নাসিরুল কবির খুনি খন্দকার মোশতাকের আপন ছোট ভাই খন্দকার নাজির আহমেদের ছেলে ও খন্দকার বিলকিস রাবেয়ার মেয়ে কাজী রেহা কবির। অথচ নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে এলাকার কতিপয় কুচক্রিকে সাথে নিয়ে নাসিরুল কবির ও রেহা কবির যাচ্ছে তাই করে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে প্রশাসনে ঘাপটি মেরে বসে থাকা খুনি মোশতাকের কতিপয় প্রেতাত্মাও তাদেরকে সহযোগিতা করছেন বলে জানা যায়। কারণ অভিযুক্তরা তাদেরকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিজেদের আয়ত্মে নিয়েছেন। মূলত বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং খুনি মোশতাকের বংশধরদের উজ্জীবীত করতেই তারা এমনটি করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রতি তাদের আক্রোশ বেশি বলেই জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক বাসিন্দা। বিদ্বেশবশত চক্রটি খন্দকার মোশতাকের বাড়ির সামনে আওয়ামী লীগ কার্যালয় রাখার ঘোরতর বিরোধী। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ১৯ নভেম্বর সন্ধায় কার্যালয়টি ভাঙচুর করেন তাদের ক্যাডাররা। এতে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে জীবদ্দশায় খুনি মোশতাকের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর ও আস্থাভাজন শহীদুল্লাহ ডিলারের ছেলে মো. মাহবুবুর রহমান বাবুল, মৃত ইদ্রিস চেয়ারম্যানের ছেলে মো. মুজিবুল হক, সাইদুল ইসলাম খুসবু, লোকমান খন্দকার ও তাজুল ইসলাম মীরের বিরুদ্ধে।
অথচ এ ঘটনায় তাজুল ইসলাম মীরকে দিয়ে উল্টো মিথ্যা মামলা করা হয়। উক্ত মামলায় দাউদকান্দি মডেল থানা ও কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ২১১ প্রমিফিউকেশন দাখিল করেন এবং আদালত তা মঞ্জুর করেন। মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে আদালত তার বিরুদ্ধে সরকার বাদি মামলা দেন বলে জানা যায়। মামলা নং ৪১/২২ তারিখ ০৭/০৭/২০২২ ইং। যা বর্তমানে চলমান। মূলত তাদেরকে ব্যবহার করে নিজেদের ও মোশতাক পরিবারকে এলাকায় আবারও প্রতিষ্ঠিত করার হীন চেষ্টা করছেন দুই বংশধর। কিন্তু এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ খুনি মোশতাক পরিবারের এমন আস্ফালন ভালোভাবে দেখছেন না।
স্থানীয় ওহাব পাঠান বলেন, নাসিরুল কবির ও রেহা কবিরের ভাষ্য অন্যরা খুনি বললেও খন্দকার মোশতাক এক সময়ের প্রেসিডেন্ট। তাই তাদের পারিবারিক অবস্থান টিকিয়ে রাখতে যেকোনো পন্থা অবলম্বন করবেন। এক্ষেত্রে তাদের প্রধান বাধা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তাই বিভিন্ন সময় দলটির নেতাকর্মীরা তাদের হাতে নির্যাতনের শিকার হন বলে জানান অনেকেই। এছাড়াও খন্দকার নাসিরুল কবির এবং কাজী রেহা কবিরের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে নিপীড়নের অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এক নারী। যার মামলা নং-সিপি ৫৭১/২০২২, তারিখ ২৯/০৯/২০২২ সিপি। তিনি মৃত হাফেজ আবুল বাশারের স্ত্রী। এতে আরও আসামি করা হয় দশপাড়ার লোকমান খন্দকার (৬০) মো. সাইদুল ইসলাম খুসবু (২৫), মৃত শহীদুল্লাহ ডিলারের ছেলে মাহবুবুর রহমান বাবু (৪৫) ও খুনি মোশতাকের আপন ভাই খন্দকার নাজির আহমেদের মেয়ে বিলকিছ রাবেয়া (৬৩) কে। এতে তিনি উল্লেখ করেন উক্ত আসামিরা চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও মারধর করেন। কারণ তার স্বামী দশপাড়া শাহী জামে মসজিদের ইমামের দায়িত্ব অবস্থায় মারা যান। তখন এতিম সন্তানদের কথা বিবেচনা করে খন্দকার বাড়িতে তাকে আশ্রয় দেন মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসী। কিন্তু নাসিরুল কবির ও রেহা কবির তাকে সেখান থেকে সরানোর জন্য নানা চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। এসব কারণেই তাকে মারধর করা হয় এবং শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেন।
উক্ত মামলাটি তদন্তাধীন। একই মাসের ১৮/০৯/২০২২ ইং রাত আনুমানিক ৮টায় জনৈক ইশতেয়াক আহমাদের কেয়ারটেকার মো. নিজাম উদ্দিনকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে ও তালা ভেঙে বসতবাড়ির দো’তলায় ডাকাতি-লুটপাটের অভিযোগ উঠে কাজী রেহা কবির এবং খন্দকার নাসিরুল কবিরসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নং আমলি আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী নিজাম উদ্দিন। যার সি আর নং-৬৩৯/২২ তারিখ ২১/০৯/২০২২ ইং। এতে অন্যান্য আসামিরা হলেন- মাহবুবুর রহমান বাবুল, মো. সাইদুল ইসলাম খুশবু, মো. তাজুল ইসলাম মীর, বিলকিস রাবেয়া, মো. জাকির হোসেন প্রধান, মো. সাব্বির হোসেন মীর ও মো. বাবু মীরসহ আরও ৮/১০ জন। এ মামলাটি তদন্তাধীন।
স্থানীয় শামসুল হক মেম্বার, হারুন মেম্বার, আব্দুর রাজ্জাক ফকির, এস এম অহিদ ফকির, আখতারুজ্জামান ফকির, বিপ্লব সিকদার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার নজরুল ইসলামসহ এলাকার অনেকেই জানান, তাদের অপতৎপরতার পর থেকেই এলাকার মানুষের শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে। তুচ্ছ ঘটনায় মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। নিজেদের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে অর্থের বিনিময়ে কতিপয় গণমাধ্যম কর্মীকে দিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করছে ঐ চক্রটি। তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি, র‌্যাব মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, কুমিল্লার এসপি ও দাউদকান্দির প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে কথা হয় ১ নং সুন্দলপুর ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম মিয়াজির সাথে। তিনি বলেন খন্দকার মোস্তাকের দুই বংশধর খন্দকার নাসিরুল কবির ও কাজী রেহা কবিরের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই এ ব্যাপারে সামাজিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদ আহমেদ বলেন, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। অবশ্যই এর একটি সুরাহা হওয়া প্রয়োজন।
দাউদকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া জানান, নাসিরুল কবির ও রেহা কবিরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তদন্ত চলছে। এর বাইরে কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।
অপরদিকে খন্দকার মোশতাকের ভাতিজা খন্দকার নাসিরুল কবির বলেন- তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আর নাতনি কাজী রেহা কবিরের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।