সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement


অস্থির কুমিল্লায় ফলের বাজার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
11.08.2022

রুবেল মজুমদার ।। কুমিল্লায় ফলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে বিক্রেতারা পণ্যেরে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ফল ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে পরিবহন খরচ অনেক বেড়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই ফলের দাম বেড়ে যাচ্ছে। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্রেতারা দায়ী করছেন খূচরা ব্যবসায়ীদের। বুধবার নগরীর বিভিন্ন ফলের বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
নগরীর বিশ^রোড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দেশি মৌসুমি ফল ছাড়া আমদানিকৃত প্রায় সব ফলের দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা এখন আমদানিকৃত গ্রিন আপেল কেজি প্রতি বিক্রি করছেন ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। যা তেলের দাম বাড়ার আগে ছিল ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা। ফুজি আপেল কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা, যা আগে ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। মাল্টার কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা, যা আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা। কমলা বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।
একই চিত্র দেখা যায় নগরীর সবচেয়ে বড় ফলের বাজার রাজগঞ্জে। কথা হয় ফল ব্যবসায়ী মমতাজ উদ্দিনের সাথে। তিনি বলেন তেলের যা দাম ,গাড়ির পাওয়া তো বড় মুশকিল, পরিবহনের ভাড়া বাড়ার কারণে ফলের ফলের দাম বেড়েছে ।
গত এক সপ্তাহ আগে যে ফলের দাম ছিল ২৫০ টাকা,তা এখন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। ক্রেতাদের চাহিদা রয়েছে, কিন্তু টাকা নেই। সরকার যদি শুল্ক কমায় তাহলে হয়তো দাম কমতে পারে।
রানীরবাজারে ফল কিনতে আসা শারমিন বেগম বলেন, বাসায় অসুস্থ বৃদ্ধ মা রয়েছে। ওনার জন্য নিয়মিত ফল কিনতে হয়। আজ বাজারে এসে দেখি অনেক দাম। গত তিনদিন আগেই আমি আপেল নিয়েছিলাম ২১০ টাকায়, আজ ২৮০ টাকার নিচে বিক্রি করবে না। এভাবে চললে আমাদের মতো মধ্যবিত্তরা ফল কিনে খেতে পারবো না।
কান্দিরপাড় এলাকার ফল পাইকারদার মামুন মোল্লা বলেন, ডলারের দাম বাড়ার কারণে আমদানি খরচ বেড়েছে,তাই আমদানি কমেছে । আপেল, কমলা ও মাল্টার আমদানি গত দুই সাপ্তাহ আমদানি তুলনামূলক কম। এর সঙ্গে এখন নতুন করে যোগ হয়েছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। এরকম চলতে থাকলে আগামী দিনগুলোতে ফলের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে আসলে আমাদের কিছু করার নেই ।
এ বিষয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালকত আছাদুল ইসলাম বলেন ,তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহনের খরচ বেড়েছে,তবে এটাকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা দাম বেশি রাখলে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাতে প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিন ৩৪ বাড়িয়ে ১১৪ টাকা, অকটেনে ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং পেট্রোল ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করার সিদ্ধান্ত জানায় সরকার। যা ওইদিন রাত ১২টার পর থেকেই কার্যকর হয়েছে।