বুধবার ১০ অগাস্ট ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement


তিতাসের বেহাল ৪টি ব্রিজ ১৫ গ্রামের মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল


আমাদের কুমিল্লা .কম :
28.07.2022

মো. মহসিন হাবিব, তিতাস : কুমিল্লার তিতাসের জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ চারটি ব্রিজ দিয়ে প্রতিনিয়ত চলছে যাত্রী ও যানবাহনসহ স্থানীয়রা।
উপজেলা জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের চেংগাতলী, বাঘাইরামপুর, গোপালপুর ও জিয়ারকান্দি- মজিদপুর ইউনিয়নের গোপালপুর ও নাগেরচর গ্রামে সংযুক্ত ওই ৪টির মধ্যে তিনটি সরু সেতু দিয়ে প্রতিদিন ছোট বড় পণ্যবাহী যাত্রীবাহী বিভিন্ন যানবাহনসহ ১৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন।
ব্যস্ততম এই সেতুগুলো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি না থাকায় এ বিষয়ে নানা অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। সেতুগুলোর পুরাতন ঢালাই ভেঙে পড়া সেতুর ওপর খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় কোনোরকমে জোড়াতালি দিয়ে আবার কোথাও লোহার পাঠাতন বিছিে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত এই সরু সেতুগুলোর ওপর দিয়ে অসংখ্য যানবাহন চলাচল করছে। যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এছাড়াও ব্রিজগুলো সরু হওয়ায় দুই দিক থেকে ছেড়ে আসা যানবাহন ও পথচারীদের পারাপারের সময় দাড়িয়ে থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা আরও জানান, প্রায় দেড় যুগ ধরে, সেতুগুলোর এ অবস্থায় পড়ে আছে। জরুরি ভিত্তিতে এগুলো মেরামত করা না হলে যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে। অন্যদিকে সরু তিনটি ব্রিজ ভেঙে নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন যানবাহনের চালকসহ এলাকাবাসী।
সরেজমিন দেখা গেছে, এলজিইডির নির্মিত বাঘাইরামপুর গ্রামের রাস্তার সেতুর দুই পাশের রেলিংগুলো ভেঙে গেছে, শুধু রডগুলো কোনো মতে ঝুলে আছে। চেংগাতলী সাবেক মেম্বার সিদ্দিকের বাড়ি সংলগ্ন বাড়ি ব্রিজটিরও একই অবস্থা। দুই পাশের রেলিং নেই, কোন মাঝারি আকারের যানবাহন যেমন প্রাইভেটকার, মাইক্রো যাতায়াত করতে পারেনা। চাকা রেলিংয়ের উপড়ে উঠে যায়। গোপালপুর হিন্দুপাড়া সংলগ্ন রাস্তার ব্রিজটির ভয়াবহ অবস্থা। নেই দুই পাশের রেলিং। শুধুই রড গুলোর অস্তিত্ব টিকে আছে। লোহার পাটাতন বিছিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। ব্রিজের পিলারগুলোর সিমেন্ট ধসে পড়ে রডগুলো বেরিয়ে এসেছে। হালকা-ভারি কোনো যান উঠলে সেতুগুলোতে কম্পনের সৃষ্টি হয়। অপরদিকে গোপালপুর ও চান্দনাগেরচর সংযোগ সেতুটি কিছুটা প্রশ^স্ত হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারলেও ব্রিজটির পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়ে অসংখ্য খানাখন্দ। একারনে ব্রিজটির উপর দিয়ে যানবাহন ধীরে গতিতে চলতে গিয়েও ছোটখাট দুর্ঘটনা হচ্ছে বলেও জানান অটো চালক মানিক। এ ছাড়া সড়কে কোনো বাতি না থাকায় রাতে যাত্রী ও যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ে প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী আলী আশ্রাফ জানান, আমাদের বরাদ্দ কম। এ দিয়ে ব্রিজের কাজ করা সম্ভব নয়। তাছাড়া এটা এলজিইডির কাজ আমার নয়। ব্রিজগুলো মেরামত নয় নতুন করে নির্মাণ করতে হবে।

স্থানীয় সমাজসেবক খায়ের বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজেগুলির ওপর দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন ও মানুষের চলাচল । এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশের পিকআপ, স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী বহনকারী গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। এজন্য আমাদের সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। ব্রিজ দুটি ভেঙে কখন যে কী হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌলী মো. মোজাম্মেল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এই মুহূর্তে আমাদের কোন বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ এলে পর্যায়ক্রমে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজগুলির স্থানে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।