সোমবার ৮ অগাস্ট ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement


কুমিল্লা নগরীতে কম গ্রামে দীর্ঘ লোডশেডিং


আমাদের কুমিল্লা .কম :
23.07.2022

তৈয়বুর রহমান সোহেল ।। কুমিল্লার প্রায় সবকটি উপজেলাতে বেশি সময় ধরে লোডশেডিং হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুধুমাত্র কুমিল্লা নগরীতে লোডশেডিং কম হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের কারণে দুগ্ধ শিল্প উৎপাদন ও সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্র জানায়, কুমিল্লার চার সমিতির অন্তর্ভুক্ত উপজেলাগুলোয় দিনে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা আছে। নিয়মিত ১০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়। প্রয়োজনের তুলনায় গড়ে ২০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ পান গ্রামাঞ্চলের লোকজন। ত্রিপুরা থেকে কুমিল্লা নগরীর জন্য দৈনিক গড়ে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হয়। এর বাইরে বেশি বিদ্যুতের দরকার হলে ক্রমান্বয়ে লোডশেডিং করা হয়। জাতীয় গ্রিডের সাথে সম্পর্কিত না হওয়ায় নগরীর মানুষ কম চাপ অনুভব করেন।
কুমিল্লা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল হোসেন প্রামাণিক জানান, আমাদের কুমিল্লা অঞ্চলের ছয় জেলায় চাহিদা ১৪৪০ মেগাওয়াট। বৃহস্পতিবার পেয়েছি সর্বোচ্চ ১০৩০ মেগাওয়াট।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন কর্মকর্তা জানান, আমাদের অধীনস্থ উপজেলাগুলোতে প্রতি সময়ে গড়ে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও দিনের বেলা মাত্র তিন মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাপ্লাই দিতে পারছি। গত একমাস ধরে দিনে তিন থেকে চার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছেই। তবে রাতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ রাখার চেষ্টা করা হয়।
কুমিল্লার বুড়িচংয়ের আইয়ান-মিহান অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী খায়রুল বাশার জানান, ক্রমাগত লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের দুধের উৎপাদন বিশ শতাংশ কমে গেছে। সকালে দুধ সংগ্রহ করে প্যাকেটিং করে তা ফ্রিজিং গাড়িতে করে শহরে পাঠাই। কিন্তু ওই সময়ে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে দুধ ঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাধ্যগত উৎপাদন কমিয়ে দিতে হয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেশি। দিনের বেলা লোডশেডিং অব্যাহত থাকলে আরও হুমকির মধ্যে পড়ে যেতে পারি।
চান্দিনার কোয়েল পাখির খামারি তাজুল ইসলাম মুজাহিদ বলেন, বিদ্যুতের কারণে পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে আমাদের ওপর। উৎপাদন কম হওয়ায় পোল্ট্রি ফিডের দাম বেড়েছে। আগের তুলনায় খাবারের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে কোয়েল পাখি পালন কমিয়ে ফেলা হয়েছে। আগে ৬০ হাজার কোয়েল পালন করলেও এখন করছি ১৫ হাজার। কোয়েল পাখির ডিম উৎপাদন খরচ এক টাকা থেকে বেড়ে দুই টাকা হয়ে গেছে। কিন্তু বিক্রয়মূল্য বাড়েনি।