বুধবার ১০ অগাস্ট ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » গরু বাজার তুলে দেওয়ায় ক্রেতা শূন্য কুমিল্লার কামার পল্লী


গরু বাজার তুলে দেওয়ায় ক্রেতা শূন্য কুমিল্লার কামার পল্লী


আমাদের কুমিল্লা .কম :
07.07.2022

মোস্তাফিজুর রহমান ।। গত দুই বৎসর করোনা মহামারীর কারণে কুমিল্লা চকবাজারের কামার পল্লীর ব্যবসা অনেকটা মন্দা ছিলো। তাই তারা আশা করে ছিলো এবারের ঈদে তাদের সেই মন্দাকে কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু এবার চকবাজারের গরুর বাজার প্রশাসন তুলে দেওয়ায় ক্রেতা শূন্য হয়ে পড়েছে কুমিল্লা নগরীর বৃহৎ এ কামার পল্লী। অলস সময় পাড় করছে অধিকাংশ কর্মচারীরা।
বুধবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কামার পল্লীর ব্যবসায়ী ও তাদের কর্মচারীরা বসে বসে গাল গল্প করে কেউ বা মোবাইলে গেমস খেলে অলস সময় পাড় করছে । ঈদকে ঘিরে যেখানে এই সময় তাদের দম ফেলার ফুসরত ছিল না সেখানে এখন তারা আড্ডা দিয়ে সময় পাড় করছে ।
কুমিল্লা কামার পল্লীর শ্রমিক লিটন বলেন, গত দুই বৎসর বাড়িতে বইয়া বইয়া খাইছি। করোনাকালীন সময়ে দোকান খুললে পুলিশ দৌঁড়াইতো। কেউ কোন অনুদান দেয় নাই। কষ্ট করে চলছি কেউ খবরও লয় নাই। যার কারণে এক থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ লাগে। এবারো গরুর বাজার তুলে দেওয়ায় কাস্টমার শূন্য। এবারো মনে হয় কপালে দুঃখ আছে।
অন্য একজন কর্মকার সফিক বলেন, আমরা করোনাকালীন সময় থেকে এখন পর্যন্ত পরিবার নিয়ে কষ্টে জীবন- যাপন করছি। আমাদের এই দুর্দিনে কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি। বরং আমাদের কর্মকারের নামে আসা ত্রাণ সামগ্রী অন্যদেরকে দিয়ে দিয়েছে।

দি বিশ্বকর্মার আয়রণ স্টোরের কর্মকার বাবুল বলেন, বাপ দাদাদের পুরনো ব্যবসা তাই ছাড়তে পারছি না। নয়তো অনেক আগেই এই ব্যবসা ছেড়ে দিতাম। ব্যবসার যেই অবস্থা সংসার চালাতেই কষ্ট হচ্ছে। বার্মিজ রেডিমেড দা,কোদাল,ছুরি, চাপাতি,খন্তা ইত্যাদি মালামাল কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খুচরা দোকানে বিক্রি করায় আমাদের আজকে এই দুর্দশা।
কুমিল্লা কর্মকার সমিতির সভাপতি বলাই কর্মকার বলেন, আমি এই পেশায় ৬০ বৎসর ধরে আছি। করোনার কারণে গত দুই বৎসর পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে চলছি। ব্যবসা বাণিজ্য কিছুই ছিলো না। ভাবছিলাম এই বৎসর সেই ক্ষতিটা পুষিয়ে নেবো। তা আর হলো না । প্রশাসন এখান থেকে গরু বাজারকে সরিয়ে আমাদেরকে শেষ করে দিয়েছে। কর্মকারদের দুর্দিনে আমি অনেকের কাছে সাহায্য চেয়েছি কিন্তু কেউ আমাদেরকে সাহায্য করেনি। এখন সরকার যদি আমাদের দিকে একটু চায় তাহলে বাপ,দাদার এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে পারবো।