বুধবার ১০ অগাস্ট ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement


বুড়িচংয়ে খাল দখলের উৎসব!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
05.07.2022

মোস্তাফিজুর রহমান ।। কুমিল্লার বুড়িচংয়ে খাল ভরাট ও সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ দিন দিন বাড়ছে। এতে দূষিত হয়ে উঠছে সেখানকার পরিবেশ। আবর্জনার দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস পথচারীসহ ওই এলাকার মানুষ। কোথাও রাস্তার পাশে আবর্জনা ফেলে খাল ভরাট করা হচ্ছে। কোথাও রাস্তার পিচের উপর আবার ব্রিজের নিচে রাখা হচ্ছে ময়লা। আবর্জনার উৎকট গন্ধে যাতায়াতকারীরা নাক চেপে পথ চলছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,জেলার বুড়িচং সদরের আরাগ রাস্তার মাথা ৯০ দশক থেকে প্রায় ১০০ শত বছর পূর্বে এটি নৌকার ঘাট ছিল। দেশের দূরদুরান্ত থেকে এসে মাঝিরা নৌকা নোঙ্গর করে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পাদন করতো। কিন্তু কালক্রমে বিস্তৃত নৌকাঘাট দূরের কথা, বাজারের ময়লা ফেলে এক সময়ের বয়ে চলা খাল সঙ্কটে ভুগছে।

বুড়িচং সদর বাজারের পশ্চিম পাশের তিথিখাল যা দীর্ঘদিনের ময়লা আবর্জনার স্তুপের কারণে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে আছে। খালের অধিকাংশ স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে আছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তিথিখাল, কোসাইল্লা খাল এবং ভারত সংলগ্ন বাকশীমূল ইউনিয়নের ফকির বাজার এলাকা দিয়ে পাগলী নদী নামে একটি নদী এসে পয়াতের জলায় যুক্ত হয়। স্থানীয় ঘুংঘুর নদী ও পরবর্তীতে সালদা নদীতে গিয়ে মিশেছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকার জরইন, হরিপুর, বাকশীমূল,ষোলনল খাড়াতাইয়া গাজীপুর,পীরযাত্রাপুরসহ অন্যান্য এলাকার ছোট-বড় খালগুলো পর্যায়ক্রমে প্রভাবশালীদের দখলে যাচ্ছে।

সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে বাড়িঘর, দোকানপাটসহ পাকা স্থাপনা নির্মাণের মহোৎসব বুড়িচংয়ে।
স্থানীয় অনেকে জানান, যারা এই খাল দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করছেন তারা এখন মনে করছেন তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
বুড়িচং সদর বাজারের পশ্চিম পাশের তিথি খাল যা দীর্ঘদিনের ময়লা আবর্জনার স্তুপের কারণে পানির প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় বিষয়টি বুড়িচং উপজেলা ইউএনও হালিমা খাতুনের নজরে আসে। তিনি ইউএনও হিসেবে যোগদান করার পর ময়লা আবর্জনার স্তুপ পরিষ্কার ও পানি নিস্কাশন করার জন্য উদ্যোগ নেন। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিদিন খালে ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। খালের ভিতরে নতুন নতুন স্থাপনা নির্মাণ করছে প্রভাবশালীরা।

স্থানীয় সচেতন মহল অনেকে জানান,এসব খাল রাতের আধারে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী খালে ময়লা আবর্জনা ফেলে ভরাট করে ফেলছে। ঘরবাড়ি ও দোকান নির্মাণ করেছে। এতে দিনে দিনে পানি নিষ্কাশনের খাল ও নালাগুলো অস্থিত্বহীন হয়ে পড়ছে। প্রতিবছর সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। উজান থেকে ভারতের পানি নেমে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অচিরে খাল খনন ও দখল থেকে উদ্ধার করা প্রয়োজন এবং তারা ময়লা ফেলার একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের আহবান জানানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

এবিষয়ে সোনার বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম রেজা সৌরভ বলেন, প্রয়াত এমপি আব্দুল মতিন খসরু ভাই আমাদের সকলকে নিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল গুলো খনন করার উদ্যোগ নেন। এখন খাল খননের কাজ যদি করা না হয় তাহলে প্রয়াতের জলাসহ বিভিন্ন ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাবে। তাই প্রশাসন প্রয়োজনে স্থানীয়দেরকে বুঝিয়ে অথবা আইনের মাধ্যমে খাল গুলো দখল মুক্ত করতে হবে। খালে যেন ময়লা আবর্জনা না ফেলে সে জন্য প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার হালিমা খাতুন বলেন, আমি কিছুদিন আগে প্রশাসনের লোক নিয়ে খালটি পরিষ্কার করি। শুনেছি এখন নাকি আবার ময়লা আবর্জনা ফেলছে। যারা অবৈধভাবে খাল দখল করে প্রাচীর নির্মাণ করছে এবং আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।