বুধবার ১০ অগাস্ট ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement


শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকোই ভরসা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
03.07.2022

মো. মহসিন হাবিব, তিতাস : কুমিল্লার তিতাস ও দাউদকান্দি এই দুই উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো ও নৌকা। গোমতী নদীর শাখা, প্রকাশ মাটিয়া (মাইট্টা) নদীর দুই তীরের প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ বছরের পর বছর শুকনো মৌসুমে সাঁকো ও আর বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়েই চলাচল করে আসছে। একটি সেতু কিংবা ব্রিজের প্রয়োজন এই অঞ্চলের মানুষের এখন সময়ের দাবি।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মাটিয়া নদী ভাগ করেছে জেলার তিতাস ও দাউদকান্দি উপজেলাকে। এই নদীর পূর্ব পাশে তিতাস উপজেলার বালুয়াকান্দি, কাকিয়াখালি,শাহবৃদ্ধি, মজিদপুর, আলীর গাঁও, কড়িকান্দি, কলাকান্দি, একলারামপুর, শাহপুর, শোলাকান্দি,লালপুর,ভাটিপাড়া, দুধঘাটা,দড়িগাঁও,মোহনপুর গ্রাম ও দাউদকান্দি অংশে আছে বারজা,বাহেরচর,হাসনাবাদ,চাউরারচর,নন্দিরচর,গংগারদ,বালুরচরসহ ৩০টি গ্রাম। হাজার হাজার বাসিন্দাদের মাটিয়া (মাইট্টা) নদী পারাপারে একমাত্র উপায় শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো আর বর্ষা মৌসুমে নৌকা।
এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। এই অঞ্চলে এখনো যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিক হয়নি।

বালুয়াকান্দি গ্রামের কৃষক হানিফ মিয়াসহ অনেকেই বলেন, বাপ-দাদার পাশাপাশি আমাদের ও বর্তমান প্রজন্মের জীবন কেটে গেলো বাঁশের সাঁকো আর নৌকা করে নদী পার হয়ে। আমরা জানি না আগামী প্রজন্মরা তাদের জীবনদশায় এই ঘাটে একটি সেতু কিংবা ব্রিজ দেখতে পাবে কি না। শুকনো ও বর্ষা এই দুই মৌসুমেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই নদী পারাপার। ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।
তাছাড়া এলাকার এক দানবীর ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে নির্মাণ করা রাস্তাটি কাঁচা ও নীচু হওয়াতে বর্ষার পানি উঠে গেলে বা বৃষ্টি হলে কাদাঁয় পরিপুর্ণ হয়ে যায়, তাতে করে স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হয়।

বালুয়াকান্দি গ্রামের মুদি দোকানী হক মিয়া বলেন,এ নদীর ওপর দিয়ে হাজার হাজার মানুষ আসা যাওয়া করে।এরই মধ্যে প্রতিবেশী উপজেলা দাউদকান্দি উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাছে হওয়ায় প্রায় ৪০/৫০জন ছাত্র ছাত্রীও বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করে বারজা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও বাজরা এস ই এস ডিপি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে । তবে শুকনো কালীন মৌসুমে বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে আসা যাওয়া করতে পারলেও কিন্তু বর্ষকালীন মৌসুমে এই নদীর ওপর দিয়ে মানুষের চলাচলে অসুবিধা হয়।
প্রতি বছর গ্রামবাসীর কাছ থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়ে এই নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করি। কিন্তু বর্ষাকালীন মৌসুমে এই নদীতে পানি বেড়ে যায়।এজন্য এই নদীতে একটা নৌকা রাখি, আর সেই নৌকা দিয়ে ১০/২০ টাকা করে মানুষ পারাপার হয়।
একটা ব্রিজের অভাবে মানুষ ১০ বছর যাবৎ অনেক কষ্ট করে এই নদীর ওপর দিয়ে আসা যাওয়া করছে হাজার হাজার মানুষ। তাই এ মাটিয়া (মাইট্টা) নদীর উপর একটি ব্রিজ হউক দুই উপজেলাবাসীর প্রাণের দাবি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, আমি সরজমিন গিয়েছিলাম। এই মুহূর্তে এই নদীতে ব্রিজ নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা নেই। সামনে সুযোগ পেলে এই নদীতে ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা করব।