সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement


ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের শঙ্কা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.04.2022

আবদুর রহমান।।


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ঈদযাত্রায় যানজটে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মহাসড়কের পাশে বাজার বসায় এবং প্রায়ই সংস্কারকাজ চলায় এই আশঙ্কা করছেন চালক ও যাত্রীরা। এছাড়া মহাসড়কে অবাধে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তিন চাকার যানবাহন। ব্যস্ততম এই মহাসড়কে নিষিদ্ধ এসব যানবাহন চলাচলের কারণে বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এছাড়া নিষিদ্ধ এসব যানবাহনের কারণে এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, বর্তমানে মহাসড়কের অন্তত ছয়টি স্থানে বাজার বসায় এবং সংস্কারকাজ চলায় কারণে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। যানজটের কারণে বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা ও দাউদকান্দি অংশে যানজটের কারণে অনেক সময় এক ঘণ্টার পথ অতিক্রম করতে সময় লাগে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা। তবে হাইওয়ে পুলিশ বলছে, ঈদযাত্রায় যান চলাচল নির্বিঘœ রাখতে সকল প্রকার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিয়োজিত থাকবে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত সদস্যরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দাউদকান্দি উপজেলার টোলপ্লাজা এলাকা, গৌরিপুর, ইলিয়টগঞ্জ, চান্দিনার মাধাইয়া, চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড ও বুড়িচং উপজেলার নিমসার এ ছয়টি স্থানে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া আদর্শ সদর উপজেলার ময়নামতি সেনানিবাস এলাকা, কুমিল্লা সদর দক্ষিণের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার ও চৌদ্দগ্রাম বাজারেও যানজট হয়। এসব এলাকায় মহাসড়কের ওপর বাজার বসার কারণে গাড়ি নিয়ে পথ চলতে বেগ পেতে হচ্ছে চালকদের। এছাড়া বাজার এলাকায় তিন চাকার বাহনসহ অন্য বাহন মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। পণ্যবাহী বাহনও থেমে থাকে। কোথাও কোথাও গড়ে উঠেছে এলাকায় তিন চাকার বাহনের অবৈধ স্ট্যান্ড। যার কারণে এই এলাকাগুলোর উপর দিয়ে যানবাহনকে ধীরগতিতে চলাচল করতে হয়। এতে প্রায়ই থেমে থেমে গাড়ির জট লেগে যায়।
মহাসড়কে চলাচলকারী চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এগুলো বাইরে মহাসড়কে দুর্ঘটনার কারণেও যানজট সৃষ্টি হতে পারে। অনেক সময় মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি অপসারণ করতে হাইওয়ে পুলিশের অনেক সময় লাগে। এরই মধ্যে যানজট লেগে মানুষের ভোগান্তি শুরু হয়। শুক্রবার (২২ এপ্রিল) সকালে মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার নিমসার এলাকার একটি পিকআপকে পেছন থেকে থেকে এসে ধাক্কা দেয় অপর একটি ক্যাভার্ডভ্যান। এতে ওই এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা যানজটের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার কারণে কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে চান্দিনা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা অনেক ধীর গতিতে গাড়ি চলাচল করে। এক্ষেত্রে হাইওয়ে পুলিশকে আরও তৎপর হতে হবে। কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রæত গাড়ি অপসারণ করতে হবে। মহাসড়কে সংস্কারকাজের বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ, কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা বলেন, কুমিল্লা থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় মহাসড়কের এক বছর মেয়াদী চার লেনের পরীক্ষামূলক সংস্কারকাজ গত বছরের নভেম্বর মাসে চান্দিনা উপজেলার কাঠেরপুল এলাকা থেকে শুরু হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে সংস্কারকাজটি পুরোদমে চলছে। সংস্কার কাজের জন্য অনেক সময় মানুষকে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তবে বর্তমানে মহাসড়কের কোথাও কোন ধরনের খানাখন্দ নেই। যার কারণে মানুষ নিরাপদ চলাচল করতে পারছে। এছাড়া মহাসড়কের যেসব স্থানে বাজার আছে, সেসব স্থানে যান চলাচলে একটু সমস্যা হয়।
তিনি বলেন, আমরা এখনো সংস্কারকাজ করছি। খুব বেশি সমস্যা না হলে আমরা ২৫ রমজান পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে চাই। এরপর হাইওয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ঈদের সময় কাজ বন্ধ রাখা হবে। আশা করছি সংস্কারকাজের জন্য ঈদযাত্রায় মানুষের কোন ভোগান্তি হবে না। দাউদকান্দির বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম বলেন, দাউদকান্দির বলদাখাল ও শহীদনগর এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে সংস্কার কাজ করছে সড়ক বিভাগ। কাজের সময় একমুখী লেন বন্ধ থাকে। যার কারণে অন্য লেন দিয়েই দুই দিকের গাড়ি চলাচল করে। এতে গাড়ি ধীরগতিতে চলে সৃষ্টি হয় যানজট।
কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী তিশা পরিবহনের বাস চালক আবুল কাশেম বলেন, একবার যানজট লেগে গেলে সেটা সহজে শেষ হয় না। এতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দুই ঘণ্টার পথ পার হতে অনেক সময় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। যদি হাইওয়ে পুলিশ বাজারগুলোতে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে, তিন চাকার যান বন্ধ রাখতে পারে এবং সড়ক বিভাগ সংস্কারকাজ বন্ধ রাখে তাহলে যানজটের সৃষ্টি হবে না। কারণ বাজার এলাকায় গাড়ি চালাতে বেগ পেতে হয়।
মহিউদ্দিন নামে কুমিল্লার এক বাসযাত্রী বলেন, গত প্রায় চার মাস ধরে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানজটে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের। আমরা ঈদের সময় নির্বিঘেœ বাড়ি ফিরতে চাই। ঈদযাত্রার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল হক বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘœ রাখতে আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ওই সময় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করবেন। সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া কোন গাড়ি থামানো হবে না। যেসব স্থানে বেশি জ্যাম হয়, সেসব স্থানে আমাদের তৎপরতা বেশি থাকবে। একই প্রসঙ্গে ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, মহাসড়কের কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রæত গাড়ি অপসারণের জন্য আমাদের রেকার টিম প্রস্তুত রয়েছে। মহাসড়কের যেসব স্থানে বাজার বসে- সেসব স্থানে আমাদের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সড়ক বিভাগ সংস্কার কাজ বন্ধ রাখলে আমরা আশাবাদী মানুষ কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই নির্বিঘেœই ঘরে পৌঁছাতে পারবে। আর মহাসড়কে তিনচাকার যান চলাচল বন্ধে আমাদের অভিযান চলছে।