সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement
  • প্রচ্ছদ » লিড নিউজ ১ » কুমিল্লায় আবারো সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকটের পাঁয়তারা ! # কুমিল্লায় তেল-চিনির রশিদ হয় না! #৪৪ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন #বোতলজাত থেকে খোলা সয়াবিনের দাম ১৮ টাকা বেশি # ভোজ্য তেলের মাসিক চাহিদা জানে না কেউ # বাজারে তেল নেই, তাই বেশি দামে বিক্রি করি-তেরিপট্টির শচীন্দ্র চন্দ্র সাহা


কুমিল্লায় আবারো সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকটের পাঁয়তারা ! # কুমিল্লায় তেল-চিনির রশিদ হয় না! #৪৪ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন #বোতলজাত থেকে খোলা সয়াবিনের দাম ১৮ টাকা বেশি # ভোজ্য তেলের মাসিক চাহিদা জানে না কেউ # বাজারে তেল নেই, তাই বেশি দামে বিক্রি করি-তেরিপট্টির শচীন্দ্র চন্দ্র সাহা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
08.04.2022

আবু সুফিয়ান রাসেল ।। কুমিল্লার বাজারে আবারো সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকটের পাঁয়তারা চলছে। নগরীর বেশ কয়েকটি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না সয়াবিন তেল।
আবার যেখানে পাওয়া যাচ্ছে সেখানে সরকার নির্ধারিত দাম থেকে ৪৪ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে খোলা সয়াবিন তেল। যা বোতলজাত সয়াবিনের তুলনায় ১৮ টাকা বেশি। বিক্রেতারা বলছেন বাজারে তেল সংকট। ভোক্তা অধিদপ্তর কুমিল্লা জানিয়েছে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সাথে কুমিল্লায় ভোজ্য তেলের মাসিক চাহিদা জানে না সরকারি কোন প্রতিষ্ঠান।
সূত্রমতে, সয়াবিন ও পাম তেলে আমদানি পর্যায়ে ১০ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্ধারিত দর থেকে খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে আট টাকা কমিয়ে ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বোতলজাত পাঁচ লিটার তেলের দাম ৩৫ টাকা কমিয়ে ৭৬০ টাকা করা হয়েছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম সাত টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৬ টাকা।
গত ২০ ৫মার্চ সচিবালয়ে তেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ, চকবাজার, টমছমব্রিজ ও বাদশামিয়ার বাজার ঘুরে দেখা যায়, খোলা সয়াবিন ১৬২ থেকে ১৮৫ টাকা পর্যন্ত লিটারে বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন নির্ধারিত মূল্য ১৬২ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
চকবাজারের আইরশ ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী খোরশেদ আলম জানান, পাম তেল ১৫৮ টাকা লিটার, খোলা সয়াবিন ১৭৫ টাকা লিটার, বোতল ১৬২ থেকে ১৬৫ টাকা।
রাজগঞ্জ বাজারের মেসার্স মনোরঞ্জন সাহা স্টোরের স্বত্ত্বাধিকারী মনোরঞ্জন সাহা বলেন, খোলা তেল নেই। বোতলজাত তেল ১৬২ টাকা লিটার। তেরিপট্টি এলাকার শচীন্দ্র চন্দ্র সাহা দোকানের স্বত্ত্বাধিকারী হরে কৃষ্ণ সাহা খোলা তেল ১৮৫ টাকা লিটার বিক্রি করছেন। অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজারে তেল নেই। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। পাইকারি রশিদ সংগ্রহে আছে কিনা এ প্রশ্নে তিনি বলেন, তেল-চিনির ভাউচার হয় না।
একই এলাকার হাজী ওসমান গণি সাওদাগরের দোকানে দৃশ্যমান মূল্য তালিকায় ০৭/০৪/২০২২ তারিখ দিয়ে লেখা আছে সয়াবিন ১৫৮ টাকা কেজি। ম্যানেজার জানান, দোকানে তেল নেই।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণের দিশাবন্দ গ্রামের মমিন স্টোরে খোলা সয়াবিন ১৭০ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে।
নগরীর বাদশামিয়া বাজারে কথা হয় কলেজের প্রভাষক এমদাদুল হকের সাথে। তিনি জানান, রোজার মাস আসলেই সকল পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এ বছর তেলের দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহ কিছুটা কম ছিলো। আবারও অতিরিক্ত দামে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস.এম. কায়ছার আলী বলেন, সয়াবিন ও পাম তেল বিষয়ে আমাদের নিকট কোন পরিসংখ্যান নেই। আমরা চাল, ডাল, আটা কুমিল্লার ১৭টি উপজেলায় বণ্টন করে থাকি। এটি মার্কেটিং বিভাগের কাজ। তারা বিষয়টি বলতে পারবে।
কুমিল্লা জেলা সহকারী কৃষি বিপণন কর্মকর্তা ও বাজার পরিদর্শক মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, জেলায় মাসে কি পরিমাণ ভোজ্য তেলের চাহিদা রয়েছে, সে হিসাব আমাদের নিকট নেই। ভোক্তা অধিদপ্তর বিষয়টি বলতে পারবে। আমরা দৈনন্দিন বাজার দর সংগ্রহ করি, মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে থাকি। কুমিল্লার বাজারে বোতলজাত সয়াবিন ১৬০-১৬২ টাকা। আর খোলা সয়াবিন ১৭০-১৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এটির কারণ হলো বাজারে ড্রাম তেল (খোলা সয়াবিন) নেই। যে সকল ব্যবসায়ী পূর্বে মজুদ করেছিলেন, তারা খোলা তেল বিক্রি করছে।
কুমিল্লার এক সাংবাদিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বুধবার (৬ এপ্রিল) রাতে নগরীর টমছমব্রিজ এলাকার ৭/৮টি দোকানে সায়াবিন তৈল কিনতে গিয়ে কিনতে পারলাম না। সব দোকানেই জানায়, সয়াবিন তৈলের সংকটের কথা। পরে অনেক চেষ্টা করে এক দোকান থেকে দুই লিটারের এক বোতল তৈল নেই।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সভাপতি রোকেয়া বেগম শেফালী বলেন, সারাদেশে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে তেলের দামসহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি হয়েছে। মূলত ব্যবসায়ী নেতারা বাজারে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রেখেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান অভিযুক্তদের যে অর্থদণ্ড দিচ্ছে তা একটি দোকানের চার ঘণ্টার ব্যবসা মাত্র।
জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুমিল্লা জেলার সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, সয়াবিনের চাহিদার বিষয়ে আমাদের নিকট কোন তথ্য নেই। যদি ভোক্তার কোন অভিযোগ থাকে, আমরা তা যাচাই বাছাই করে দেখি। এছাড়াও রুটিন ওয়ার্ক হিসাবে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) নাসিম ফারহানা শিরীন বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলায় সয়াবিন সংকটের কথা জানতে পেরেছি। আমরা আরো অভিযোগ পেয়েছি, কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করছেন। সরকার নির্ধারিত দাম ও চলমান বাজারে পণ্যের দাম আমরা সংরক্ষণ করে থাকি।