সোমবার ৫ ডিসেম্বর ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement


সড়ক নয় যেন মৃত্যু কূপ!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
07.04.2022

এন এ মুরাদ, মুরাদনগর ।। কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট থেকে কালামুড়া পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার। প্রতিবছর এইটুকু জায়গায় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় প্রায় ২০-৩০জন মানুষ। সরু রাস্তা, প্রচুর গাড়ির চাপ, অদক্ষ চালকের বেপরোয়া গতি ও আইনের যথেষ্ট প্রয়োগ না থাকা দুঘর্টনার প্রধান কারণ বলে জানা গেছে।
সড়কের ১৫ কিলোমিটার এলাকায় গত দেড় মাসে ছয়টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৭ জন। এদের মধ্যে পঙ্গুত্বের অভিশাপতো আছেই। ১০ই মার্চ বেগমাবাদ বাজার মোড়ে সুগন্ধা বাসের চাপায় কলেজ ছাত্র রবিউল ও তার বন্ধু সজিব নিহত হওয়ার পর ৬ এপ্রিল ২০২২ইং বুধবার বেগমাবাদে সিএনজি চালিত অটোরিকশার ধাক্কায় মোটর সাইকেল আরোহী এক যুবক (৩৫) নিহত হয়েছে। সড়ক নয় এ যেন মৃত্যুর কূপ।
একটি দুর্ঘটনার রক্তের দাগ শুকানোর আগেই আরেকটি তাজা প্রাণের রক্তে লাল হচ্ছে সড়ক। খালি হচ্ছে কত মায়ের বুক, আর তাতে বাড়ছে লাশের মিছিল। চোখের পলকে ঘটে যাওয়া দূর্ঘটনার কারণে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। এ মিছিলে শামিল হচ্ছে ছাত্র, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন এই সড়কে হাজারো পণ্যবাহী গাড়ি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ব্রাক্ষণবাড়িয়া, সিলেটসহ আশপাশের জেলাসমূহে যাতায়াত করে। সড়কের নিয়মিত যাত্রীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, কুমিল্লা- সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ৪২ কিলোমিটার এলাকার বেশির ভাগ জায়গায় সড়কের দুই পাশে মাটি নাই, ফুট পাত নাই, সরু রাস্তায় নিষিদ্ধ ট্রাক্টারের অবাধ বিচরণ, যততত্র অটোরিকশা পার্কিং, যানবাহনের বেপরোয়া গতিই দূর্ঘটনার জন্য বেশি দায়ী। তাদের দাবি সড়কের প্রসস্ততাসহ বিশৃংঙ্খলা রোধে দায়িত্বশীলদের মূল কাজের প্রতি আন্তরিক হতে হবে।

এ ব্যাপারে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান বাবুল জানান, সড়কের অপ্রসস্ততা, অদক্ষ চালক, অভারলোডিং যানবাহন, নিষিদ্ধ ট্রাকক্টর, ও যেখানে সেখানে থ্রী হুইলার পাকিং দূর্ঘটনার মূল কারণ। সড়কের এইসব সমস্যা সমাধান করে পুরো রোড ট্রাফিক নিয়ম কানুনের মধ্যে আনলে হয়ত দুর্ঘটনা কমে আসতে পারে।

মিরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাসুদ আলম জানান, গত এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় চারটি মৃত্যুর মামলা রেকর্ড হয়েছে। দুর্ঘটনা রোধে বেশ কয়েকটি স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ির চালকদের লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস ও কাগজ পত্র যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। যাদের লাইসেন্স বা গাড়ির কাগজ পত্র নেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।