সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement
  • প্রচ্ছদ » লিড নিউজ ১ » কুমিল্লায় কাউন্সিলর সোহেলসহ দুইজন হত্যা: প্রধান আসামি শাহআলম ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত


কুমিল্লায় কাউন্সিলর সোহেলসহ দুইজন হত্যা: প্রধান আসামি শাহআলম ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত


আমাদের কুমিল্লা .কম :
02.12.2021

কুমিল্লা প্রতিনিধি ।।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহাকে গুলি করে খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি শাহ আলম (২৮) পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।
বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কুমিল্লা সদর উপজেলার চাঁনপুরস্থ গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) ও থানা পুলিশের সঙ্গে এই ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। শাহআলম নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুজানগর পূর্বপাড়া এলাকার জানু মিয়া ছেলে। এ সময় পুলিশ তার হাতে থাকা ৭.৬৫ মডেলের একটি পিস্তল উদ্ধার করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পরিমল দাস।
তিনি বলেন, বুধবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁনপুরস্থ গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে জেলা ডিবি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের একাধিক দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। পুলিশও আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি করলে উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির একপর্যায়ে কয়েকজন দুষ্কৃতকারী পালিয়ে যায়। গুলিবর্ষণ শেষে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে শাহ আলম বলে শনাক্ত করে।
আহত শাহআলমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এসময় বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের দুইজন সদস্য আহত হন।
এর আগে গত (৩০ নভেম্বর) মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মামলার ৩ নম্বর আসামি নগরীর সুজানগর এলাকার রফিক মিয়া ছেলে মো. সাব্বির রহমান(২৮) ও মামলার ৫ নং আসামি নগরীর সংরাইশ এলাকার কাকন মিয়ার ছেলে সাজন(৩২) পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।
উল্লেখ্য ২২ নভেম্বর নগরীর পাথুরিয়াপাড়া থ্রি স্টার এন্টারপ্রাইজে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন কাউন্সিলর সোহেল ও হরিপদ সাহা। এছাড়া এ ঘটনায় আরও ৫ জন গুলিবিদ্ধ হন। ২৩ নভেম্বর রাতে কাউন্সিলর সোহেলের ছোট ভাই সৈয়দ মো. রুমন বাদী হয়ে ১১ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতার আরও একজন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বুধবার রাতে তাকে সদর উপজেলার আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আসামি ইমরান খন্দকার নগরীর সুজানগর এলাকার আবুল বাশারের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার।
সোহান সরকার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান জানায়, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার সময় তার মামাতো ভাই জিসান (এজহারনামীয় ০৮ নং আসামি) তাকে ফোন করে তাদের বাসার দিকে যেতে বলে। সেখানে যাওয়ার পর ইমরান শাহ আলম, সাব্বির , জেল সোহেল, সাজেন, মাসুমসহ অজ্ঞাতনামা আরো দুই তিনজন লোক দেখতে পায়। তারা তিনটি কালো ব্যাগে অস্ত্র এবং হাত বোমা ভর্তি করছিল। ইমরান এবং জিসান তাদেরকে ব্যাগ ভর্তি করতে সহযোগিতা করে । তারপর ব্যাগ তিনটি ইমরান এবং জিসানকে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। ইমরান এবং জিসান অস্ত্র ও বোমা ভর্তি ব্যাগ তিনটি সংরাইশ এলাকায় রহিম ডাক্তারের গলিতে তাজিহা লজ নামক বাসার ভিতরে ফেলে দিয়ে চলে যায়।