সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement


নৌকার বিপক্ষে একটা ভোট কাটলে ৫টা লাশ পড়বে


আমাদের কুমিল্লা .কম :
26.11.2021

# নবীনগর পশ্চিম ইউপি নির্বাচনে

নবীনগর প্রতিনিধি।।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফিরোজ মিয়ার বিরুদ্ধে যদি একটা ভোটও কাটা হয়, তাহলে পাঁচটা লাশ পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আশরাফুল আলম নামে এক ছাত্রলীগ নেতা। বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) রাতে ওই ইউনিয়নের লাপাং স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় এমনই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আশরাফুল নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। নির্বাচনী ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল।
আগামী ২৮ নভেম্বর নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রচারণা সভায় আশরাফুলের দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
আশরাফুল তার বক্তব্যে বলেন, ‘প্রশাসন কাজ করুক বা না করুক- নৌকার বিরুদ্ধে যদি একটা ভোটও কাটে, ওই ওয়ার্ডে পাঁচটা লাশ পড়বে ইনশাআল্লাহ। লিডার ছাত্রলীগ তো, আবেগে চইলা আসছে। ইনশাল্লাহ নৌকার বিপক্ষে কেউ ভোট কাটতে পারবে না। আমরা শক্ত হাতে প্রতিবাদ করব’।
লাশ ফেলার বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম বলেন, ‘আমাদের সভা চলাকালে পাশের চিত্রী গ্রামে নৌকার বিপক্ষে ভোট কাটা হবে বলে খবর আসে। আসলে বয়স অল্প তো, বিবেকের তাড়নায় তখন বলে ফেলেছি- নৌকার বিপক্ষে যদি কেউ ভোট কাটতে আসে দরকার হলে পাঁচটা লাশ ফেলব। আবেগে বলে ফেলেছি। দয়া করে এটি নিয়ে নিউজ কইরেন না’।
এ বিষয়ে জানতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোর্শেদ হোসেন কামালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নূর আলম বলেন, ‘আমি এবং আবার সমর্থকদের প্রতিনিয়ত হুমকি-ধমকি দিচ্ছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন। তারা এলাকায় অস্ত্র নিয়ে ঘুরাফেরা করে। আমরা সবাই আতঙ্কে আছি। আমরা চাই নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, জনগণ ভোট দেবে। ভোটাররা যাকে খুশি, তাকে নির্বাচিত করবে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘এ ধরনের কোনো খবর শুনিনি। যদি এমন বক্তব্য কেউ দিয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং শক্তি প্রয়োগ করে ভোট নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই’।