সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » ফরম পূরণ করেও পরীক্ষা দেয়নি মানবিকের পৌনে চার শতাংশ পরীক্ষার্থী


ফরম পূরণ করেও পরীক্ষা দেয়নি মানবিকের পৌনে চার শতাংশ পরীক্ষার্থী


আমাদের কুমিল্লা .কম :
20.11.2021

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড

তৈয়বুর রহমান সোহেল।।
২০২১ সালের চলমান এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের মানবিক বিভাগের প্রায় পৌনে চার শতাংশ ঝরে গেছে। এবার বিভাগটির তত্ত্বীয় বিষয় বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বিষয়ে ফরম পূরণ করে ৮০হাজার ২০৯ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৭৭হাজার ২৫৭জন। অনুপস্থিত ছিল দুই হাজার ৯৫২জন। অনুপস্থিতির হার তিন দশমিক ছয় নয় শতাংশ। কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, মানবিক বিভাগের প্রথম পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডের অধীনস্থ ছয় জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝরে পড়েছে কুমিল্লা জেলায়। বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বিষয়ে কুমিল্লা জেলা থেকে ফরম পূরণ করে ২৫হাজার ৭২৪ জন, অনুপস্থিত ছিল এক হাজার ৪৩জন। অনুপস্থিতির হার চার দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। নোয়াখালী জেলার ১১ হাজার ৪৩২জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে, অনুপস্থিত ছিল ৪৪৫জন। অনুপস্থিতির হার তিন দশমিক আট নয় শতাংশ। চাঁদপুরে ফরম পূরণ করে ১১ হাজার ৮৯৩ জন, অনুপস্থিত ছিল ৪৩৪ জন। অনুপস্থিতির হার তিন দশমিক ছয় পাঁচ শতাংশ। ফেনীতে ফরম পূরণ করে সাত হাজার ৪৬৫জন, অনুপস্থিত ছিল ২৫১ জন। অনুপস্থিতির হার তিন দশমিক তিন ছয় শতাংশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফরম পূরণ করে ১৫ হাজার ৭০৬ জন, অনুপস্থিত ছিল ৫১৬ জন। অনুপস্থিতির হার তিন দশমিক দুই নয় শতাংশ। লক্ষ্মীপুরে সাত হাজার ৬৮৯ জনের বিপরীতে অনুপস্থিত ছিল ২৬৩ জন। অনুপস্থিতির হার তিন দশমিক দুই নয় শতাংশ।
বিজ্ঞানের তত্ত্বীয় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে ৫৩ হাজার ৩৭৮ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। পরীক্ষা দেয় ৫২ হাজার ৭৭১ জন। পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৬০৭জন। অনুপস্থিতির হার এক দশমিক এক চার শতাংশ। বিজ্ঞানে সবচেয়ে বেশি ঝরে পড়ে নোয়াখালী জেলায়। এ জেলায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে ফরম পূরণ করে ৮হাজার ৭৩১ জন। পরীক্ষা অংশগ্রহণ করেনি ১২৪জন। ঝরে পড়ার হার এক দশমিক চার দুই শতাংশ। অন্যান্যের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছয় হাজার ৭৯১জন ফরম পূরণ করে অনুপস্থিত থাকে ৮২জন। ঝরে পড়ার হার এক দশমিক দুই শতাংশ। কুমিল্লায় ২১ হাজার ৭৬০জন ফরম পূরণের বিপরীতে অনুপস্থিত থাকে ২৫১ জন। অনুপস্থিতির হার এক দশমিক এক পাঁচ শতাংশ। চাঁদপুরে আট হাজার ৭৯৪ জনের বিপরীতে অনুপস্থিত ছিল ৯৫জন। অনুপস্থিতির হার এক দশমিক শূন্য আট শতাংশ। ফেনীতে তিন হাজার ৯৩৬ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৩১জন। অনুপস্থিতির হার শূন্য দশমিক সাত নয় শতাংশ। লক্ষ্মীপুরে তিন হাজার ৩৩৬ জনের বিপরীতে অনুপস্থিত ছিল ২৪ জন। অনুপস্থিতির হার শূন্য দশমিক সাত এক শতাংশ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে ফরম পূরণ করে ৭৩ হাজার ৪৭৫জন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৭১হাজার ৬৫২জন। অনুপস্থিত ছিল এক হাজার ৮২৩জন। অনুপস্থিতির হার দুই দশমিক চার আট শতাংশ। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে ফরম পূরণ করে আট হাজার ৩০৩জন। অনুপস্থিত থাকে ২৬৩জন। অনুপস্থিতির হার তিন দশমিক এক সাত শতাংশ। কুমিল্লা জেলায় ২৫হাজার ৬৯৯জনের বিপরীতে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থী ৭২৩ জন। অনুপস্থিতির হার দুই দশমিক আট এক শতাংশ। নোয়াখালীতে ১৪ হাজার ৩৫জনের বিপরীতে অনুপস্থিত ৩৬১জন। অনুপস্থিতির দুই দশমিক পাঁচ সাত শতাংশ। চাঁদপুরে ১০হাজার ৩৩৭জনের বিপরীতে অনুপস্থিত ২০৯জন। অনুপস্থিতির হার দুই দশমিক শূন্য দুই শতাংশ। লক্ষ্মীপুরে ছয় হাজার ৪৪৫জনের বিপরীতে ১১৯জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকে। অনুপস্থিতির হার এক দশমিক আট পাঁচ শতাংশ। ফেনীতে আট হাজার ৬৫৬ জনের বিপরীতে অনুপস্থিত ছিল ১৪৮ জন। অনুপস্থিতির হার এক দশমিক সাত এক শতাংশ।
তিন বিভাগের তিন বিষয় বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডের গড় অনুপস্থিতির হার দুই দশমিক চার চার শতাংশ। শতকরা হিসেবে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত পরীক্ষার্থী কুমিল্লা জেলায়। এ জেলার দুই দশমিক ছয় সাত শতাংশ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। তাছাড়া নোয়াখালীর দুই দশমিক ছয় তিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই দশমিক পাঁচ পাঁচ, চাঁদপুরের দুই দশমিক দুই পাঁচ এবং ফেনী ও লক্ষীপুরের এক দশমিক নয় পাঁচ শতাংশ করে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. আসাদুজ্জামান জানান, মানবিক বিভাগে মেয়ের সংখ্যা বেশি। তাড়াতাড়ি বিয়ে হওয়ার কারণে তাদের মধ্যে ঝরে পড়ার হারও বেশি। অন্যান্য বছরেও ঝরে পড়াদের মধ্যে মানবিক বিভাগই এগিয়ে থাকে। অপরদিকে যেসব জেলার মানুষের বিদেশ, পড়ালেখা বা অন্য কোনো কারণে শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা বেশি, সেসব এলাকাতেও বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষায় রেজিস্ট্রেশনের তুলনায় প্রায় ৬০হাজার শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করা থেকে বিরত থাকে।