শুক্রবার ১২ অগাস্ট ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement


সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন কালো ধোঁয়ার আড়ালে!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
13.11.2021

অটো রাইস মিলের ধোঁয়ায়ে প্রকৃতি ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে

 

জসিম চৌধুরী।।
কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার, ভারেল্লা উত্তর ইউনিয়নের, পশ্চিম সিংহ, পারুয়ারা, কংশনগর, দেবপুর, শোভারামপুর, রামপুর , কুসুমপুর, রামচন্দ্রপুর, হাসনাবাদ গ্রাম। এই সকল গ্রামে বসবসা করে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। কুমিল্লা-সিলেট প্রধান আঞ্চলিক সড়কের দু’পাশে ৪১টি অটো রাইস মিল গড়ে উঠেছে, আরো জানা যায় যে নতুন মিলের প্রস্তুতি চলছে। ভারেল্লা ইউনিয়নের আকাশে বাতাসে কালো ধোঁয়া আর তুষের আগুনের ছাই মেঘাচ্ছন্ন করে থাকে দিন দুপুরে। তাতে প্রকৃতি ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পরছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর যেন কালো ধোঁয়ার আড়ালে আছে! ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি, মিলগুলো দূষণ মুক্ত পরিবেশ রাখতে নজর রাখবে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পারুয়ারা, রামপুর, কংশনগর ও ভারেল্লা ইউনিয়নের কুমিল্লা-সিলেট সড়কের দু’পাশে একই সীমানা প্রাচীরে কয়েকটি অটো রাইস মিল রয়েছে। যা নাকি সাধারণ মানুষ মনে করেন একটি মিলের দুর্ঘটনা অন্য মিলগুলোর ঝুঁকি এড়াতে পারেন না। মিলের সংলগ্ন জমি, ডোবা, খাল ব্যবহারে অযোগ্য। এই গ্রামগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার লোকের বসবাস । সরকারি বেসরকারি প্রাইমারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা রয়েছে, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে পাঠ গ্রহণ করতে হচ্ছে। এই এলাকার ২টি হাটবাজারে শতাধিক দোকানপাট রয়েছে। ভুক্তভোগীরা নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, মিল চলাকালে মেশিনের বিকট শব্দে বাড়িতে থাকা যায় না। শব্দ দূষণে রাতে ঠিকমত ঘুমানো যায় না। ধানের তুষ পঁচানোর দুর্গন্ধ এবং বয়লারের উড়ন্ত ছাই-ধুলা বাইরে এসে পড়ায় রাস্তায়ও দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। মিল সংলগ্ন ফসিল জমিতে ফলন তুলনামূলকভাবে ভালো হচ্ছে না। কুমিল্লা-সিলেট সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, সাইকেল চালকদের উড়ন্ত ছাই দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। দূষণের কারণে গাছপালা ও ফলফলাদি নষ্টসহ এবং পশু-পাখির জীবনসহ জনস্বাস্থ্য চরমভাবে বিপন্ন হতে বসেছে।
মিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি ড্রেইন করে সরকারি খালে সংযুক্ত করে।
ফলে মিলের বর্জ্য, ময়লা আবর্জনা দিয়ে খালের স্বচ্ছ পানি চলাচলের বাধা সৃষ্টি হয়ে প্রায় বন্ধের পথে । মিলের নোংরা পানি বের হয়ে খালটিকে নষ্ট করে ফেলেছে। সেখানে নামলে শরীরে চুলকানি হয়। মিলের দুর্গন্ধের কারণে এলাকায় শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রায়ই হাসপাতালে যেতে হচ্ছে স্থানীয়দের। বিশেষ করে ছোট ছোট শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে মিলের অব্যবস্থাপনার কারণে। আরো জানায়, এই খালে প্রচুর দেশি মাছ পাওয়া যাতো, এই ইউনিয়নের কৃষক, জেলে, সাধারণ মানুষেরা মাছ ধরে মছের চাহিদা মেটাতো এবং এই খালের মাছ খুব মজাদার। এখন এই এলাকায় যে পরিমাণ অটো রাইস মিল গড়ে উঠেছে সেই সব মিলের দূষিত পানি এই খালেই গড়াগড়ি করে যার ফলে মাছ পাওয়াটা এখন দুর্লভ।
ভারেল্লা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান রব বলেন, আমি এই এলাকার সন্তান, ১৫ বছর ধরে নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে আছি। আমার নিজেরও একটি রুবেল এগ্রো অটো রাইস মিল রয়েছে। এমন আরো ৪০অটো রাইস মিল রয়েছে বুড়িচং উপজেলায় । এখানে সহস্রাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে মিলটি স্থাপনের ফলে। উপার্জনের পথ তৈরি হয়েছে পুরুষ-মহিলা দরিদ্র-হতদরিদ্র মানুষদের। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি বলেন, মিলের ভিতরে ধোঁয়া, বালু, ছাই যাতে বাহিরের ক্ষতি না করে এবং কালো ধোঁয়াকে সাদা করে সেজন্য সাইক্লোন মেশিন রয়েছে। কয়েকটি চিমনি ছাড়া প্রায়টি ৯২ফুট রয়েছে। পরিবেশে অধিদপ্তর নজর রাখছেন। মিলের বর্জ্য, ময়লা আবর্জনা দিয়ে খাল বন্ধ হয়ে যাওয়া খাল পরিষ্কার ও সংস্কার সরকারিভাবে করে দিব। না হয় আমরা মালিক পক্ষ খাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা করে দেওয়ার উদ্যোগ নিব। তিনি আরো বলেন, সরকারের সকল বিধি মেনে এবং সকল দাপ্তরিক ছাড় পত্র নিয়ে ব্যবসা করছি।
পরিবেশে অধিদপ্তরের উপপরিচালক শওকত আরা কলি বলেন, সরকারি বিধি মেনে এবং পরিবেশ সম্মত যে কোন মিল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করলে সমস্যা নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন না মানলে জরিমানা এবং পরিবেশ দূষিত করলে তাঁদের বিরুদ্ধে এনলোটস মামলা রুজু করা হয়। তিনি আরো বলেন, জাতীয় অর্থনৈতির চাকা সচল রাখতে হবে। বুড়িচং উপজেলায় ৪১টি অটো রাইস মিলের তালিকা রয়েছে, যে সকল মিলের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ পাবো তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবো। আমাদের যেহেতু ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার নেই সেহেতু ভ্রাম্যমাণ আদালত যখন তখন পরিচালনা করতে পারি না। অটো রাইস মিলের চিমনির উচ্চতা নিম্নে ৬০-৮০ হতে হবে, সাইক্লোন সিস্টেম হতে হবে তবেই পরিবেশে সম্মত হবে। তার ব্যত্যয় ঘটলে পরিবেশে অধিদপ্তরকে জানাবে।
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাম্মৎ সাবিনা ইয়াছমিন বলেন, আমি অভিযোগ পাইনি। তবে কেউ যদি অভিযোগ দেয় তাহলে ব্যবস্থা নিব।