শুক্রবার ১২ অগাস্ট ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » তিতাস-মেঘনার ন্যায় কুমিল্লার বাকি ১৫টি উপজেলাতেও জনগণের ভোটের নির্বাচিত চেয়ারম্যান দেখতে চাই -মন্তব্য প্রতিবেদন


তিতাস-মেঘনার ন্যায় কুমিল্লার বাকি ১৫টি উপজেলাতেও জনগণের ভোটের নির্বাচিত চেয়ারম্যান দেখতে চাই -মন্তব্য প্রতিবেদন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
13.11.2021

শাহাজাদা এমরান।।

‘মুখ তোলো মন খোল
একটু ভালোবাসোরে –
ভুল তুমি ক্ষমা করো
এবার কাছে টানোরে ’

আশা নিয়ে বেঁচে আছি কবিতায় কবি কাজি আনিসুল হকের কথার যথার্থ মূল্যায়ন করেছেন কুমিল্লার তিতাস ও মেঘনা উপজেলার সাধারণ জনগণ। এই দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের জনগণ গেল প্রায় এক দশক ধরে ভোট না দিতে পারার যেই যন্ত্রণায় ভুগছিল এবারের ইউপি নির্বাচনে তারা রাজনীতিকদের সেই ত্রুটি ক্ষমা করে স্বত:স্ফূর্তভাবে কেন্দ্র এসে নিজের ভোট নিজে দিয়ে এবং প্রার্থীরাও ভোট করার মতো সহমর্মিতা দেখাতে পেরে প্রার্থী – ভোটার একজন আরেকজনকে কাছে টেনে নিয়েছে।
এবারের ইউপি নির্বাচনে এ পর্যন্ত (তৃতীয় ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর) চেয়ারম্যান পদে বিনা ভোটে ২৫৩ জন নির্বাচিত হয়েছেন। তারা সবাই নৌকার প্রার্থী। এটা ভালো লক্ষণ না। কুমিল্লার তিতাস ও মেঘনা উপজেলায় গত ১১ নভেম্বর যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা বিনা ভোটে হননি। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া ওইদিন এই দুই উপজেলায় অবাধ,সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
কুমিল্লার বাকি ১৫টি উপজেলার ইউপি নির্বাচন সামনে আছে।আশা করব, দয়া করে কেউ বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হওয়ার চেষ্টা করবেন না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের যে কোন উপায়ে বসাবেন না।আপনি মরে গেলে কেউ যাতে আপনাকে না বলে বিনা ভোটের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। তিতাস ও মেঘনা উপজেলার আওয়ামী লীগের এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও নেতাদের কোমরে শক্তি আছে। তারা তাদের প্রার্থীদের মাঠে নামিয়েছে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসার জন্য। জনগণ তাদের হতাশ করেননি। দলীয় ও বিদ্রোহীসহ দুই উপজেলার নির্বাচিত সব চেয়ারম্যান ক্ষমতাসীন দলের হলেও দলমত নির্বিশেষে সবাই তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছে। কারণ,তারা কোন প্রার্থীকে যে কোন পর্যায়ে বসিয়ে দিয়ে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হননি।
সুতরাং, তিতাস ও মেঘনার ইউপি নির্বাচন দিয়ে কুমিল্লায় জনগণের ভোট দেওয়ার যে সুবাতাস ফিরে এসেছে অবশিষ্ট উপজেলাগুলো যেন এই ধারা ধরে রাখে। তাহলে ভোটের অধিকার নষ্ট করার জন্য কিংবা আগের রাতে ভোট করে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে বিরোধী দলগুলো প্রতিনিয়ত সরকারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করে আসছে, তা কিছুটা হলেও দূর হবে বলে বিশ্বাস করি।
যেহেতু বিএনপি নির্বাচনে যাচ্ছে না তাই দলীয় কিংবা বিদ্রোহী যেই নির্বাচন করে চেয়ারম্যান হবেন তিনি কিন্তু আওয়ামী লীগেরই লোক হবেন। এতে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের যেমন কোন লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই অপর দিকে, গণতন্ত্রের যে মূল সৌন্দর্য জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এটাও সরকার হিসেবে আওয়ামী লীগ দাবি করতে পারবে,‘হে বিরোধীদল,কথা কম বল,দেখ আমরা ইউপিতে সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়েছি’। অর্থাৎ, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হলে, চেয়ারম্যানের ব্যক্তিত্বের দিক থেকে আত্মবিশ্বাস বাড়বে,সরকারের ইমেজ বৃদ্ধি পাবে,দল হিসেবে আওয়ামী লীগের জনগণের সাথে অধিক সম্পর্ক দৃঢ় হবে, প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা বাড়বে। সর্বোপরি লাভ হবে গণতন্ত্রের। আশা করি, কুমিল্লার কোন উপজেলাতেই আমরা বিনা ভোটের চেয়ারম্যান দেখব না। সবাই মেঘনা ও তিতাস উপজেলার মতো জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে চেয়ারম্যান হবেন। কুমিল্লার মানুষ আপনাদের নিয়ে যেন গর্ব করতে পারে। সেই প্রত্যাশা রইলো।