সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২
Space Advertisement
Space For advertisement


প্রতিবন্ধীতা ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
31.10.2021

মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন

যথাযথ ভাবে কার্যসম্পাদনের অক্ষমতাই সাধারণত প্রতিবন্ধীতার লক্ষন, সমাজে দৃশ্যমান বিভিন্ন কর্ম সম্পাদনে অপারগদেরই মূলত এ শ্রেনিভুক্ত করা হয়। প্রকৃতপক্ষে প্রতিবন্ধী দুই প্রকৃতির,দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য। দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী, বাক-প্রতিবন্ধী, শ্রবন-প্রতিবন্ধী,বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী, বিভিন্ন অঙ্গহানি সহ আরও কিছু দৃশ্যমান কর্ম অযোগ্য মানুষ প্রথম শ্রেনীভুক্ত, শারীরিক এবং মানসিকভাবে বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যাক্তিদের নিয়ে সবার মনে একটি বদ্ধমূল ধারণা প্রচলিত তা হল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অসুস্থ, রোগাক্রান্ত, আর রোগাক্রান্ত মানুষেরা কিছুই পারে না, তাই তারা সমাজের বোঝা। শিক্ষা, বিনোদনের সুযোগ, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে কর্মক্ষম স্বাভাবিক জীবনযাপন তাদের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। এই ভুল ধারণার বশবর্তী হয়েই তাদের হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। আমাদের জানাটা জরুরি যে মানুষ জন্মগতভাবে বা জন্মের পর বিভিন্ন দুর্ঘটনা বা শারীরিক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বা অসমর্থতার কারনে স্বাভাবিক জীবনযাপনে কিছুটা বাধাগ্রস্থ হন, এক কথায় এ বাধাগ্রস্ত অবস্থাটিকে ‘প্রতিবন্ধীতা’ এবং প্রতিবন্ধীতার সম্মুখীন সেই ব্যক্তিকে প্রতিবন্ধী সম্বোধন করা হয়। যখনই অ- প্রতিবন্ধী মানুষ তাদের ‘প্রতিবন্ধী’ বলে বিদ্রুপ করেন, একটু অবাক দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন তখন তাদের অদম্য মনোবলে চিড় ধরে, নিজেদের ভিনগ্রহের প্রানি ভাবতে শুরু করেন, যদিও প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব অসচেতনতার ফলেই তৈরি হয়। পক্ষান্তরে সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সংবলিত কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে কিছু বিশেষ স্বল্পতা বা মাত্রাতিরিক্ত লক্ষ্মণ পরিলক্ষিত হয় যা প্রায় সবার মাঝেই বিরাজমান তারা দ্বিতীয় শ্রেনিভুক্ত এটা অনায়াসেই বলা যায়। শুধু কি স্বল্পতাই প্রতিবন্ধীতার সংজ্ঞা? প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ধারন করাও প্রতিবন্ধীতা। দৃশ্যমান প্রতিবন্ধীদের চেয়ে অদৃশ্য প্রতিবন্ধীর সংখ্যা বেশি এবং পরিধি অনেক বিস্তৃত। দৃশ্যমান অক্ষমরা অন্যের সাহায্য নিয়ে জীবন নির্বাহ করে থাকে প্রয়োজন মাফিক, তবে এরা সমাজের বা প্রানীকূলের জন্য তেমন একটা পীড়াদায়ক হয় না, কারন সবসময়ই তারা নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত থাকে।অন্যদিকে বাকিরা শারীরিকভাবে সম্পুর্ণ সুস্থ থাকার পরও বিভিন্ন স্বল্পতায় ভোগে,যে স্বল্পতার সুফল কুফল দুটোই আছে। যেমন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কিছু করার প্রবনতা সেটা ভাল হলেও যার বা যাদের জন্য করা হয় তারাই সন্দেহের চোখে দেখে এবং ভাবে এ থেকে জানি সে কি সুবিধা নিতে চায়? যিনি কাজটি করেন এ ভাবনা সম্পর্কে কিন্তু সে মোটেই ওয়াকিবহাল নয়, এটা কি প্রতিবন্ধীতা নয়? পক্ষান্তরে যে বা যারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কাজ করা ব্যাক্তিটিকে সন্দেহের তীরে বিদীর্ন করল তারাও তো একধরনের স্বল্পতায় ভোগে এটাও যে প্রতিবন্ধীতার শামিল।পরিবারে ও সমাজে সবসময়ই নিজেকে কতৃত্বের আসনে দেখতে চাওয়াও যে প্রতিবন্ধীতা, কিছু মানুষ সবসময়ই অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করে নিজের আধিপত্য বিস্তারে ব্যাস্ত থাকতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে, যোগ্যতার ব্যাপারে সম্যক ধারনা না থাকা থেকে সাধারণত এটা হয়ে থাকে।অনেকের মাঝে এ ধারণা প্রবল যে -“সব ভাল কাজ, শ্রেষ্ঠ কাজ শুধু আমার দ্বারাই সংগঠীত হওয়া সম্ভব” এবং অন্যের প্রশংসাযোগ্য ও স্বীকৃতি দেয়ার মত কাজকেও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে এটা কতবড় প্রতিবন্ধীতা? নিজের দোষ ও অন্যের গুনের ব্যাপারে ধারণা না থাকা কি প্রতিবন্ধীতা নয়? শারীরিক ও মানসিক অসুস্থরা যদি সুস্থদের প্রতিবন্ধী আখ্যা দেয় তাহলে কি তাদের কোনভাবেই দায়ী করা যাবে?আসলে আমরা সবাই কোন না কোন স্বল্পতায় ভুগী কিন্তু এটা মানতে নারাজ, এটাই একধরনের প্রতিবন্ধীতা, যা দৃশ্যমান অক্ষমদের চেয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। ঐশ্বরিক ভাবে না হলে দৃশ্যমান প্রতিবন্ধীতা থেকে মুক্তি পাওয়া দূরূহ, কিন্তু মনে প্রান চেষ্টা করলে আত্মসমালোচনা করলে বহুলাংশেই অদৃশ্য প্রতিবন্ধীতা থেকে মুক্তি মেলে, এজন্য উদার মানসিকতা লালন করতে হবে। পরিবার পরিজন, আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশি, বন্ধু বান্ধব সবাইকে আপনার খারাপ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করতে বলতে হবে নিজ থেকে। পরবর্তীতে
এগুলো সংশোধন করতে পারলেই তো অনুকরণীয় মানুষ হওয়া সহজ হয়ে যায়৷